নিউজ ডেস্ক: আফ্রিকার ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশটির সাতটি প্রদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৮,৩০০ ছাড়িয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪,০১৮ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রায় ৪৮.৪ শতাংশ। এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যেই সংক্রমণ ঠেকাতে আশার আলো দেখাচ্ছে বুন্দিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া একটি নতুন ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল।
কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ২,১৬২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে সংক্রমণ কেবল তিনটি স্বাস্থ্য অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সাতটি প্রদেশের ৬৩টি অঞ্চলে। এর মধ্যে ৪৫টি অঞ্চলেই এখনও ভাইরাসটির সক্রিয় বিস্তার চলছে। আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা 'ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স' যৌথভাবে সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, সম্প্রতি নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা কম দেখা গেলেও বাস্তবে এটি নজরদারির ঘাটতির কারণে হতে পারে। বহু এলাকায় নিরাপত্তা সংকট এবং স্থানীয়দের অসযোগিতার ফলে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই প্রাদুর্ভাবের মূলে রয়েছে বুন্দিবুগিও ভাইরাস, যার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। এ সংকট মোকাবিলায় গত জুলাই মাস থেকে লক্ষণহীন ব্যক্তিদের দেহে ভাইরাসটির সংক্রমণ রুখতে একটি প্রতিরোধমূলক ওষুধের ট্রায়াল শুরু হয়েছে।
দ্য অ্যালায়েন্স ফর ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল অ্যাকশন, কঙ্গোর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিকেল রিসার্চ এবং ফরাসি গবেষণা সংস্থা ‘এএনআরএস’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ট্রায়ালে ইতোমধ্যে ২৫০ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক অংশ নিয়েছেন।
গবেষকরা জানান, দুর্গম এলাকা থেকে অংশগ্রহণকারীদের কেন্দ্রে আনা এবং তাঁদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে পরিবারে কারও মৃত্যু হলে স্বেচ্ছাসেবকরা মানসিক আঘাতে ভেঙে পড়ছেন, ফলে তাঁদের গবেষণায় ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।ঝুঁকিতে স্বাস্থ্যকর্মীরা, ডব্লিউএইচওর উদ্বেগ এদিকে প্রাদুর্ভাব রুখতে লড়াই চালিয়ে যাওয়া সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। সুরক্ষার অংশ হিসেবে তাঁদের ‘এরভেবো’ টিকা দেওয়া হচ্ছে, যা অতীতের অন্য প্রজাতির ইবোলা প্রাদুর্ভাবে কার্যকর প্রমাণিত হলেও বুন্দিবুগিও ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কতটা ফলপ্রসূ, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ইতোমধ্যে 'ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স'-এর এক কর্মী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নেদারল্যান্ডসে স্থানান্তরিত হয়েছেন এবং গত জুনে ফ্রান্সে ফেরা আলিমার এক চিকিৎসকের শরীরেও সংক্রমণ শনাক্ত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, যেভাবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এই প্রাদুর্ভাব ২০১৪-১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় প্রাণ হারানো ১১ হাজার মানুষের ভয়াবহ রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।