নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ প্রক্রিয়াকে ঘিরে জাতীয় রাজধানী জুড়ে সংঘাতের আবহ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। গত সপ্তাহে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভের সময় দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক এবং আইনজীবী ও সাংবাদিকদের হেনস্থার যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল, বৃহস্পতিবার তা পৌঁছল সুপ্রিম কোর্টের দরজায়। প্রধান বিরোধী দল ও নাগরিক আন্দোলনের একাধিক আবেদনের শুনানিতে শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট জবাবদিহির নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারপতিদের বেঞ্চ এ দিন স্পষ্ট জানিয়েছে, বিক্ষোভস্থলে কর্মরত এক মহিলা সাংবাদিককে শ্লীলতাহানির যে অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে উঠেছে, তা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত মহিলা বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠনের ভাবনা রয়েছে আদালতের। একই সঙ্গে এসসি/এসটি আইনের ধারায় অভিযুক্ত ওই মহিলা সাংবাদিককে সব ধরনের কড়া পদক্ষেপ থেকে সাময়িক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। আদালত পুলিশ প্রশাসনকে ওই দিনের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণ অক্ষত রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত যন্তরমন্তরকে কোন যুক্তিতে প্রতিবাদস্থল হিসেবে বাতিল করা হলো, সে বিষয়েও কেন্দ্রের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিস জারি করা হয়েছে।
রাজধানীর প্রশাসনিক অন্দরে যখন আইনি লড়াই চলছে, তখন রাজপথের উত্তাপ বাড়িয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র পদক্ষেপ। সংগঠনের দুই আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে সম্প্রতি পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে তিহার জেলে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, যন্তরমন্তরের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে তাঁরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাবি করে, ছাড়া পেলে তাঁরা ফের আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি করতে পারেন এই আশঙ্কায় ‘আগাম গ্রেফতার’ করা হয়েছে তাঁদের।
এই ধরপাকড়ের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি অভিযোগ তোলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে বাঁচাতেই দিল্লিকে কার্যত গৃহবন্দি করে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাঁর দাবি, “মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে লাগাম টেনে রাজধানী শহরকে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের মতো দুর্গে পরিণত করা হয়েছে।” এর প্রতিবাদে শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে এক বিশাল ‘তেরঙ্গা যাত্রা’র ডাক দিয়েছেন দিপকে।
এদিকে শুক্রবারের কর্মসূচি রুখতে কঠোর অবস্থানের কথা দিল্লি হাইকোর্টকে আগেই জানিয়ে রেখেছে দিল্লি পুলিশ। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ শীর্ষ বিরোধী নেতৃত্ব সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারের কড়া নিন্দা জানিয়েছেন। এই আন্দোলনের প্রভাব ছড়িয়েছে দিল্লিতে বাইরেও। জানা গেছে, মহারাষ্ট্রে সিইসি-বিরোধী সমাবেশে শামিল হওয়ার কারণে বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নোটিস পাঠিয়েছে মুম্বই পুলিশ।





