নয়াদিল্লি: রাতের দিল্লি। স্কুটিতে চেপে একের পর এক রাস্তা পেরিয়ে চলেছেন এক যুবক। পরনে মহিলাদের পোশাক, মুখ-চোখ ঢাকা ওড়নায়, সাজও বদলে ফেলেছেন। উদ্দেশ্য একটাই—মহিলার পরিচয়ে রাতের রাজধানীর রাস্তায় বেরিয়ে দেখবেন, একা চললে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু প্রায় দু’ঘণ্টার সেই ‘সামাজিক পরীক্ষা’ শেষ হওয়ার আগেই তাঁর অভিজ্ঞতা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। বার বার তাকিয়ে থাকা, পিছু নেওয়া, কাছে এসে কথা বলার চেষ্টা—একাধিক ঘটনার কথা ভিডিয়োয় জানিয়েছেন ওই যুবক।
সমাজমাধ্যমে ‘BeJaintle’ নামে পরিচিত ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই অভিজ্ঞতার ভিডিয়ো প্রকাশ করেছেন। ভিডিয়োর শুরুতেই দেখা যায়, পুরুষের চেহারা বদলে তিনি মহিলার পোশাক পরছেন, মেকআপ করছেন এবং মাথা ও মুখ ওড়না দিয়ে ঢেকে নিচ্ছেন। তার পর স্কুটি নিয়ে রাতের দিল্লির রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন।
বাড়ি থেকে বেরোনোর পরেই তাঁর দাবি, আশপাশের কয়েক জন তাঁকে লক্ষ্য করে তাকাতে শুরু করেন। রাস্তায় স্কুটি চালানোর সময়ও সেই নজরদারি কমেনি। তাঁর দাবি, দু’জন যুবক প্রথমে তাঁকে লক্ষ্য করেন, পরে স্কুটি নিয়ে তাঁর পিছু নিতে শুরু করেন এবং আরও কাছে আসার চেষ্টা করেন। অন্য একটি ঘটনায় এক ব্যক্তি রাস্তায় তাঁর কাছে এসে কথা বলতে শুরু করেন বলেও ভিডিয়োয় জানিয়েছেন তিনি।
এর পর পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে অটোচালকদের নিয়ে। ওই যুবকের দাবি, দু’জন অটোচালক তাঁদের গাড়ি তাঁর স্কুটির সামনে এনে দাঁড় করান। তাঁদের মধ্যে এক জন তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধুদের ভিডিয়ো করতে দেখে সরে যান বলে দাবি। অন্য এক অটোচালক বার বার গাড়ি তাঁর দিকে এগিয়ে আনছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
প্রায় দু’ঘণ্টা রাস্তায় থাকার পর শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তাঁর কথায়, পরিস্থিতি ক্রমশ ভয় ধরানোর মতো হয়ে উঠছিল। পরে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, এত অল্প সময়েই বার বার এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে যে মহিলারা রাতে একা বেরোলে কী ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে পারেন, তা তিনি বুঝতে পেরেছেন।
ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পর সমাজমাধ্যমেও শুরু হয়েছে আলোচনা। কেউ ওই যুবকের পরীক্ষাকে মহিলাদের রাতের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখেছেন, কেউ আবার এমন সামাজিক পরীক্ষা কতটা বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিনিধিত্ব করে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে ঘটনাটি মনে করিয়ে দিয়েছে আরও একটি বিষয়—রাস্তায় কারও দিকে তাকানো থেকে শুরু করে পিছু নেওয়া বা পথ আটকে দাঁড়ানো, প্রতিটি আচরণের প্রভাব এক রকম নয়। ওই যুবকের দাবি সত্যি হলে, মাত্র দু’ঘণ্টার অভিজ্ঞতাই তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর উপলব্ধি, রাতের শহরে একা চলাফেরার ক্ষেত্রে মহিলাদের উদ্বেগের বিষয়টি আরও গভীর।