দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। মঙ্গলবার শমীক ভট্টাচার্যের দিল্লির বাড়িতে এই বৈঠক ঘিরে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বৈঠকে শুধু এনসিপিআই সাংসদদের বিষয়েই আলোচনা হচ্ছে, নাকি রাজ্য বিজেপির সংগঠন ও আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত হতে পারে, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
এর আগে এদিন সকালে এনডিএ-র বৈঠকে যোগ দেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের সাংসদরা। তাঁদের মধ্যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে প্রথম সারিতে দেখা যায়। তবে ওই বৈঠকে এনসিপিআইয়ের তিন সংখ্যালঘু সাংসদ উপস্থিত ছিলেন না।
এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আলাদা করে ওই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারপর শমীক ভট্টাচার্যের বাড়িতে শুভেন্দু ও সুনীল বনসলের সঙ্গে বৈঠক করেন। ফলে এনসিপিআই সাংসদদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা এবং পরে এনসিপিআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় সুনীল বনসলের ভূমিকা ছিল। কিন্তু লোকসভার স্পিকার এখনও তাঁদের এনসিপিআই হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেননি। ফলে তাঁদের বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ওই সাংসদদের সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।
তবে বৈঠকের আলোচনার পরিধি শুধু সাংসদদের ভবিষ্যৎ নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজ্য বিজেপির সংগঠন নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সম্প্রতি দলের নিচুতলায় ‘বেনোজল’ ঢুকে পড়া এবং তৃণমূলীকরণের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। সামনে পুরভোট থাকায় প্রার্থী বাছাই, সংগঠনের রদবদল এবং নিচুতলার কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান।
দিল্লির এই বৈঠককে ঘিরে বঙ্গ বিজেপির আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।