নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালীন কেরালার বাসিন্দা তথা কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই-এর নেত্রী অ্যাথিরাকে থানায় নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে কেরালায় একটি ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করেছে রাজ্য পুলিশ।
প্রকাশ পাওয়া একটি ভিডিও বার্তায় নির্যাতিতা নেত্রী জানিয়েছেন, কনট প্লেস থানার একটি সিসিটিভি ক্যামেরাহীন গোপন ঘরে আটকে রেখে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে।
https://x.com/athulmnair1/status/2110642734801490137?s=20
ভিডিওটিতে ক্ষোভ ও যন্ত্রণায় ভেঙে পড়া অ্যাথিরাকে বলতে শোনা যায়,বিক্ষোভস্থল থেকে আটক করার পর তাঁকে দিল্লির কনট প্লেস থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সিঁড়ির নিচে এমন একটি ঘরে তাঁকে জোর করে ঢোকানো হয়, যেখানে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। অ্যাথিরার অভিযোগ, তিন থেকে চার জন পুলিশকর্মী তাঁকে ঘিরে ধরে নির্দয়ভাবে পেটাতে থাকে এবং একের পর এক লাথি মারে। তিনি কোনো প্রতিরোধ করেননি এবং বারে বারে নিজের নির্দোষিতা জানিয়ে থামার আর্জি জানান কিন্তু সেই আকুতিতে কান না দিয়ে উল্টে হাসাহাসি ও উপহাস করতে করতে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
অভিযোগ আরও মারাত্মক, মারধরের সময় অ্যাথিরার গলায় থাকা ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করা হয় এবং টানাহেঁচড়া করে পোশাক ছিঁড়ে দেওয়ারও চেষ্টা চলে। এই নৃশংস শারীরিক আক্রমণের ফলে তাঁর মুখমণ্ডল, চোখ ও কানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং এক কানের শ্রবণশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ১৩ অক্টোবর, দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময়। অ্যাথিরার বক্তব্য, দিল্লিতে অভিযোগ জানাতে গেলেও স্থানীয় পুলিশ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এরপর তিনি কেরালার পুলিশ প্রধানের কাছে সরাসরি সাহায্য চান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তিরুঅনন্তপুরমের মিউজিয়াম থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর আওতায় শ্লীলতাহানি, প্রাণনাশের হুমকি ও বিপজ্জনক আঘাত হানার বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ নথিবদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে এক নিরস্ত্র ছাত্রীর ওপর এমন বর্বরোচিত আচরণ প্রশাসন ও মানবাধিকারের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।




