নিউজ ডেস্ক: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে দিল্লি পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিকের বিরুদ্ধে চরম অবমাননাকর ভুয়ো ছবি বানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম নাদিম আহমেদ (২৪)। সে হরিয়ানার পলওয়ালের বাসিন্দা।
দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন অশান্তি উসকে দিতে এবং পুলিশের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতে সে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই কাজ করেছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমে একটি তথাকথিত ‘সিসিটিভি ফুটেজ’ ভাইরাল হতে শুরু করে। সেখানে দাবি করা হয়, দিল্লির এক বিক্ষোভস্থলে এসিপি পদমর্যাদার এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক প্রশ্ন করতে যাওয়া এক মহিলা সাংবাদিককে নিগ্রহ ও হেনস্থা করেছেন। বিষয়টি দ্রুত নজরে আসে নয়াদিল্লি জেলা পুলিশের সাইবার থানার। খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, ভিডিওটি কোনো বাস্তব ফুটেজ নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুলের সাহায্যে নিখুঁতভাবে তৈরি করা একটি সম্পূর্ণ জাল ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট।
এর পরপরই সাইবার থানায় নির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। ডিজিটাল পদচিহ্ন এবং প্রযুক্তিগত নজরদারি চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে, ‘নিউজ আয়না’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে প্রথম এই বিভ্রান্তিকর পোস্টটি ছড়ানো হয়েছিল। এরপর ট্র্যাক করে গত ৫ অক্টোবর হরিয়ানার পলওয়াল থেকে নাদিম আহমেদকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাদিম দাবি করেছে, সে নিজেকে ‘স্বাধীন সাংবাদিক’ হিসেবে পরিচয় দিত। শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রশ্নে সে জানায়, দিল্লির সাকেতের একটি মাদ্রাসায় দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। পরে সিজেপি বিক্ষোভের সময়ে প্রচার পাওয়ার জন্য সে নিজের চ্যানেলটি চালু করে। ধৃত যুবক পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে যে, বিভিন্ন এআই টুলের সাহায্যে সে ৩ অক্টোবর এই জাল সিসিটিভি ফুটেজটি বানায় এবং ৪ অক্টোবর তা ইন্টারনেটে পোস্ট করে।
তদন্তকারীদের মতে, ৪ অক্টোবর বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত আন্দোলনকারীদের ক্ষিপ্ত করে তোলা, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং আইনরক্ষকদের জনসমক্ষে হেয় করাই ছিল অভিযুক্তের মূল ছক। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, নাদিম একাই এই জালিয়াতি করেছে নাকি নেপথ্যে কোনো বড় সুসংগঠিত ষড়যন্ত্র বা আর্থিক মদত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তার মোবাইল ফোন, সামাজিক মাধ্যমের কার্যকলাপ ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ইন্টারনেটে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
