ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজার যখন একের পর এক সমস্যার মুখে, তখন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (BSEC) চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিনিয়োগকারীদের একাংশের দাবি, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে শীর্ষ কর্তাদের পারিশ্রমিক কয়েক গুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে করা এক অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, আগের সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে BSEC চেয়ারম্যানের বেতন ছিল মাসে ১ লক্ষ টাকা এবং কমিশনারদের ৮০ হাজার টাকা। বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে চেয়ারম্যানের বেতন ৬ লক্ষ টাকা এবং কমিশনারদের ৪ লক্ষ টাকা করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই বেতন কাঠামোর সরকারি প্রজ্ঞাপন বা সংশ্লিষ্ট নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রশ্ন উঠছে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং পুঁজিবাজারের দুর্বল অবস্থার মধ্যে এমন বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা কোথায়? বিশেষ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যখন বাজারে নিজেদের সঞ্চয় নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন, তখন সরকারি অর্থে উচ্চপদস্থ কর্তাদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
BSEC-এর বর্তমান কমিশনে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার রয়েছেন। কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইটে বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে মাসুদ খান এবং কমিশনার হিসেবে তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, মো. নাফিজ আল তারিক ও হোসেন সাদাতের নাম দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পুঁজিবাজারে নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যক্রম নিয়ে BSEC নিয়মিত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। কমিশনের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক enforcement action-এর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের একাংশের আরও অভিযোগ, প্রায় ৪০টি ব্রোকারেজ হাউস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষের বিনিয়োগ আটকে রয়েছে। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গড়ে প্রায় ৫ হাজার বিনিয়োগকারী যুক্ত থাকলে মোট প্রায় ২ লক্ষ বিনিয়োগকারী সমস্যায় পড়তে পারেন। গড়ে প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ আটকে থাকার হিসাব ধরলে অঙ্কটি দাঁড়ায় প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা। তবে এই সংখ্যা ও আর্থিক পরিমাণও সংশ্লিষ্ট সরকারি বা নিয়ন্ত্রক নথি দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
এখানেই মূল প্রশ্ন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো, বন্ধ বা সমস্যাগ্রস্ত ব্রোকারেজের বিষয়ে দ্রুত সমাধান এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষার পাশাপাশি শীর্ষ কর্তাদের বেতন বৃদ্ধিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে?
বিনিয়োগকারীদের বক্তব্য, তাঁদের কাছে বিষয়টি শুধু বেতন বৃদ্ধির নয়; বরং বাজারের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন। তাঁদের দাবি, পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলির সমস্যা সমাধানেই আগে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে এই বেতন বৃদ্ধি কি প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের অংশ, নাকি বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এর সময় নির্বাচন নিয়েই আরও ব্যাখ্যা দরকার?
পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের একাংশ তাই সরকারের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দাবি করেছেন। তাঁদের বার্তা “বেতন নয়, আগে পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা।”