দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: একেবারে সাধারণ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আচমকা উত্ত্যক্ত হয়েছিল পাড়ার পরিবেশ। বিকেলের দিকে পাশাপাশি দুই পরিবারের মধ্যে শুরু হওয়া বচসা ক্রমে এমন জায়গায় পৌঁছয় ,যার পরিণতি নিয়ে রাত পর্যন্ত এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। কি কারনে এতটা উত্তেজনা, তা নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনাও। পরে ঘটনার আসল কারণ সামনে আসতেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রকাশ্যে আসে।
ঘটনাটি ঘটেছে নোদাখালি থানার পূর্ব চন্ডিপুরের চকমৌখালী মোল্লাপাড়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাশাপাশি বসবাসকারী দুই পরিবারের মধ্যে জল যাওয়ার রাস্তাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরেই মনোমালিন্য চলছিল। সোমবার বিকেলে সেই পুরনো বিবাদ ফের মাথাচাড়া দেয়। প্রথমে কথা কাটাকাটি আরম্ভ হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিবাদ চলাকালীন সন্টু নামে এক ব্যক্তি এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়ুব শেখ ও তার পরিবারের সদস্যদের বচস্যা শুরু হয়। এরপর দু' পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। সেই সময় বাঁশ ও লাঠি নিয়ে আয়ুব শেখকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আচমকা আঘাতে গুরুতর ভাবে যখন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ৫১ বছর বয়সে ওই ব্যক্তি।
এরপর পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে এলাকার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যান। কিন্তু, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পেশায় রাজমিস্ত্রি ওই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনার খবর পেয়ে নোদাখালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুচিসা হাসপাতালে পাঠানো হয়। পাশাপাশি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্টু সহ মোট চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
তবে, কিভাবে সামান্য জল যাওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে এত বড় ঘটনা ঘটলো, তা তদন্ত করছে তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথাও বলেন তাঁরা। ঠিক কি ঘটেছিল, বিবাদের সূত্রপাত কোথা থেকে এবং মারধরের ঘটনায় কার কি ভূমিকা ছিল, সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
