হাবিবুর রহমান, ঢাকা: হাম এবং ডেঙ্গুর জোড়া ব্যাধিতে আক্রান্ত বাংলাদেশ। স্বীকার না করলেও পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রগুলি। মহম্মদ ইউনূসের ১৭ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনকালে উপেক্ষিত ছিল হামের
টিকা আমদানি। অভিযোগ, তাঁর সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আর্থিকভাবে লাভবান হতে ইউনিসেফের বদলে অজানা প্রতিষ্ঠান থেকে হামের টিকা আমদানি করে। এই টিকা হাম প্রতিরোধে সুফল দেয়নি। আবার দেশের সিংহভাগ শিশুকে হামের প্রতিরোধী টিকা দেওয়া যায়নি। তার ফলস্বরূপ শিশুরা এখন হামে আক্রান্ত
হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও উপসর্গে এক হাজার ১৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ টেকনিক্যালি দুটি ভাগ করেছেন। বলছেন হাম রোগ ও হাম উপসর্গ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, হামেই তো মৃত্যু হয়েছে। তবে হামের
উপসর্গ টানা হচ্ছে কেন? অধিদপ্তরের ভাষায়- নিশ্চিত হামে ১০২ ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ৩২, অর্থাৎ ১১৩৪ শিশু হামে মারা গিয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ২৯১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯৯ হাজার ১৩। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এ
নিয়ে রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯৯ হাজার ১৩ জন।
এদিকে হামের জোরালে আঘাতের মাঝেই আগ্রাসি হানা দিয়েছে ডেঙ্গু। চলতি মৌসুমে দেশে ডেঙ্গু জ্বর পরিস্থিতি ক্রমেই আগ্রাসী হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মঙ্গলবার সকাল অবধি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রেকর্ড ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল সোমবার প্রাণ হারিয়েছিল ৬ জনে। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৯০ হাজার ৩৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মোট ৮৪ হাজার ২৯৯ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র
পেয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। এ
সময়ে ডেঙ্গুতে ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।
