নিউজ ডেস্ক: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশের পোশাকে নেই নেমপ্লেট। কারণ ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ চলাকালীন দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন-এ বেনিয়মের অভিযোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সামলাতে মোতায়েন বহু পুলিশকর্মীর উর্দিতে নামের কোনো ব্যাজ দেখা যায়নি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে আন্দোলনকারী ও সচেতন মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে দাবি, সামাজিক মাধ্যমে ট্রোলিং ও ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়াতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।
বিক্ষোভের প্রথম দিনে আন্দোলনকারীদের তোলা একাধিক ভিডিয়োয় দেখা যায়, ডিউটিরত পুলিশকর্মীদের নেমপ্লেট না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। প্রশ্নের মুখে কেউ কেউ দাবি করেন ভিড়ের চাপে ব্যাজ খুলে গেছে, কেউ বলেন ভুলবশত ভুলে এসেছেন, আবার কেউ স্পষ্ট জানান ইচ্ছাকৃতভাবেই তাঁরা তা খুলে রেখেছেন।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২০ জুলাইয়ের এক বিক্ষোভের অভিজ্ঞতাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। সেদিন প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা চেয়ে 'ককরোচ জনতা পার্টি'-র সংসদ ভবন অভিযানের সময় তুমুল অশান্তি বাধে। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা হলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস চালায়। সেই ঘটনার বহু ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়। পরে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় বহু জুনিয়র পুলিশকর্মী জানান, উর্দির নেমপ্লেট দেখে তাঁদের চিহ্নিত করে সামাজিক মাধ্যমে চরম হেনস্থা করা হচ্ছে। এমনকি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পরিচিত মহলে কটাক্ষ ও 'মিম'-এর শিকার হতে হয়েছে।
সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর শীর্ষ কর্তারা আশ্বাস দেন আইন মেনে দায়িত্ব পালনকালে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে নেমপ্লেট না রাখলেও কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। ফলে বরিষ্ঠ আইপিএস আধিকারিকরা ব্যাজ বহাল রাখলেও বহু অধস্তন কর্মী তা সরিয়েই ময়দানে নামেন। উল্লেখ্য, সাধারণত কাশ্মীর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল বা মাওবাদী অধ্যুষিত সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নিরাপত্তার কারণে বাহিনীর পরিচয় গোপন রাখার রেওয়াজ রয়েছে,যদিও রাজধানীর মতো শহরে এই কৌশল বিরল।
এদিকে বিক্ষোভের ময়দানে তথাকথিত 'সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার'-দের অতিসক্রিয়তা নিয়েও কড়া নজরদারি শুরু করেছে প্রশাসন। অভিযোগ, একদল ইনফ্লুয়েন্সার সাংবাদিকদের পরিচয় দিয়ে পুলিশকে উসকানিমূলক প্রশ্ন করছে এবং পরে তা দিয়ে বিকৃত কনটেন্ট তৈরি করছে। সাম্প্রতিক এক বিক্ষোভে এমন একজন ব্যক্তিকে হামলার অভিযোগে গ্রেফতারও করা হয়েছে। ভুয়ো সাংবাদিক রুখতে এবার যন্তর মন্তরে সন্দেহভাজনদের পরিচয়পত্র যাচাইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
