নিউজ ডেস্ক: সিনেমার পর্দায় দেখা জায়গাই হঠাৎ করে হয়ে উঠছে পর্যটকদের নতুন গন্তব্য। আদিত্য ধরের ছবি ‘ধুরন্ধর’ মুক্তির পর ঠিক এমনই ছবি দেখা যাচ্ছে লাদাখের লেহ-তে। ছবিতে পাকিস্তানের লিয়ারি এলাকার আবহ তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়েছিল একটি স্থানীয় ক্যাফে। পর্দায় যার নাম ছিল ‘ওয়াশমা বাট’। রনবীর সিং অভিনীত ছবিটির জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে সেই ক্যাফেকে এখন ‘ধুরন্ধর ক্যাফে’ নামেই চিনছেন পর্যটকেরা। শুধু তাই নয়। সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে মিল রেখে ছবি তোলার হিড়িকও পড়ে গিয়েছে সেখানে।
https://x.com/IndiaToday/status/2102703969793724800?s=20
লেহ শহরের ব্যস্ত মল রোডের বাজারের মধ্যে অবস্থিত এই খাবারের দোকানটির আসল নাম অবশ্য ‘এসএইচ খান রেস্তরাঁ’। ‘ধুরন্ধর’-এ সেটিকে বদলে বানানো হয়েছিল ‘ওয়াশমা বাট’ চায়ের দোকান। ছবিতে এখানেই রণবীর সিং অভিনীত হামজা এবং গৌরব গেরার অভিনীত চরিত্র আলমের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনের দৃশ্য তোলা হয়। পর্দায় দেখা সেই দোকানটিকে ছবির শ্যুটিংয়ের পর পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে না নিয়ে তার নতুন পরিচয়টিকেই ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিক সোহেল আলি।
ছবির সাফল্যের পর লেহ-তে আসা পর্যটকদের মধ্যে ‘ওয়াশমা বাট’ নিয়ে আগ্রহ দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণী, পরিবার এবং ‘ধুরন্ধর’-এর অনুরাগীদের কাছে জায়গাটি এখন কার্যত একটি দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ছবির জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখেই তাঁরা ‘ওয়াশমা বাট’ নামটি রেখে দিয়েছেন। আবার স্থানীয়দের কাছে জায়গাটি এখন ‘ধুরন্ধর ক্যাফে’ নামেই পরিচিত। অর্থাৎ, সিনেমার জন্য তৈরি করা একটি কাল্পনিক পরিচয়ই বাস্তবে দোকানটির নতুন পরিচয়ের অংশ হয়ে গিয়েছে।
‘ধুরন্ধর’-এর প্রভাব অবশ্য শুধু এই ক্যাফেতেই আটকে নেই। ছবির ‘গেহরা হুয়া’ গানে রণবীর সিং এবং সারা অর্জুনকে দেখা গিয়েছিল লাদাখের বিখ্যাত স্যাংগাম পয়েন্টে। সিন্ধু ও জানস্কার নদীর মিলনস্থলের সেই মনোরম এলাকাতেও ছবির দৃশ্যের পুনর্নির্মাণ করতে ছুটছেন পর্যটকেরা। কেউ কেউ ছবি তুলছেন। তো কেউ আবার সিনেমার দৃশ্যের মতো মুহূর্ত তৈরি করছেন। ফলে পর্দার গল্প, সংলাপ আর গানের পাশাপাশি ‘ধুরন্ধর’ এখন লাদাখের পর্যটন মানচিত্রেও নিজের ছাপ ফেলছে। সিনেমার পর্দায় দেখা জায়গাগুলিই যেন দর্শকদের কাছে বাস্তবের নতুন গন্তব্য হয়ে উঠছে।