কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত এবং একই সঙ্গে কিংবদন্তি হয়ে থাকা গোলের স্মৃতি এ বার উঠল নিলামে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দিয়েগো মারাদোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের ম্যাচ বলটি আমেরিকায় নিলামে বিক্রি হল ৩৩ লক্ষ ডলারে। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৩১.৬ কোটি টাকা। শনিবার আমেরিকার হেরিটেজ অকশনসে নিলামে ওঠা এই বলটিকেই মারাদোনা ব্যবহার করেছিলেন সেই ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনালে। ম্যাচটি হয়েছিল মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের মাথার উপর দিয়ে হাত দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন মারাদোনা। ভিডিও রেফারিংয়ের যুগ তখনও আসেনি। ফলে ইংল্যান্ডের প্রবল প্রতিবাদ সত্ত্বেও বহাল থাকে গোলের সিদ্ধান্তই।
সেই ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটিও এসেছিল একই বল থেকে। ইংল্যান্ডের পাঁচ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শিলটনকে পরাস্ত করে মারাদোনার সেই অবিশ্বাস্য গোল পরবর্তী সময়ে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে স্বীকৃতি পায়। গ্যারি লিনেকার ৮১ মিনিটে ইংল্যান্ডের হয়ে একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জেতে আর্জেন্টিনা। ‘হ্যান্ড অব গড’ নিয়ে দীর্ঘদিন মুখ খোলেননি মারাদোনা। পরে ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি স্বীকার করেছিলেন, গোলটি সত্যিই হাত দিয়ে করেছিলেন। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক শিলটন অবশ্য বহু বছর পরেও সেই গোল নিয়ে মারাদোনার ক্ষমা প্রার্থনাকে যথেষ্ট বলে মনে করেননি।
বলটির মালিকানা নিয়েও রয়েছে আলাদা গল্প। ম্যাচের তিউনিশীয় রেফারি আলি বিন নাসের বলটি নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর সংগ্রহেই ছিল সেটি। ২০২২ সালে তিনি বলটি ২৩.৭ লক্ষ ডলারে বিক্রি করেন। পরে নতুন মালিক এক বছর পর ফের নিলামে তুললেও তখন কোনও ক্রেতা পাওয়া যায়নি। ২০২৩ সালে বিন নাসের একটি চিঠিতে নিশ্চিত করেন যে, ১৯৮৬ সালের ওই ম্যাচে ব্যবহৃত একমাত্র বলটিই তাঁর কাছে রয়েছে। স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের যাচাইয়েও বলটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।
তবে এ বার নিলামের আগে প্রত্যাশা ছিল আরও অনেক বেশি। অনুমান করা হয়েছিল, বলটির দাম ১ কোটি ডলারের কাছাকাছি উঠতে পারে। শেষ পর্যন্ত ৩৩ লক্ষ ডলারে থামল দর। হেরিটেজ অকশনসের বিশেষজ্ঞ মাইক প্রোভেনজালে এই বলকে ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মারকগুলির একটি বলে উল্লেখ করেছেন। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর প্রয়াত হন মারাদোনা। তাঁর মৃত্যুর প্রায় ছ’বছর পরও ‘হ্যান্ড অব গড’-এর সেই বল প্রমাণ করে দিল, ফুটবল ইতিহাসে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তির ছাপ কতটা গভীর।