নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির নামে বিপুল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। সেই সূত্র ধরে মঙ্গলাবার সাত সকালে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (ED)। এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, 'কেউ নিজের ইচ্ছেমতো কিছু করতে পারে না। কোনও অভিযোগ এলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্গাপুজোর নামে টাকা তোলা বা এ ধরনের কাজ বেআইনি। আমি এবং সরকার এর বিরোধিতা করি। এ নিয়ে এফআইআর হয়েছে, এখনও ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, জেড প্লাস নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, যার নামে দুর্নীতির মামলা রয়েছে এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাঁকে জেড প্লাস নিরাপত্তা দেওয়া প্রশাসনের প্রতি অপমান। প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা অবশ্যই দেওয়া হবে। তবে এমনটা হতে পারে না যে, ‘যে যত বড় চোর, তার নিরাপত্তা তত বেশি’। পাশাপাশি, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দেশের প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে বদনাম করার রাজনীতি করার অভিযোগ তোলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়। রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে এতটা নিচে নেমে মন্তব্য করার কোনও প্রয়োজন নেই।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে ভাঙন ধরেছে তৃণমূলের অন্দরে। দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঋতব্রত শিবির এবং মমতা শিবির। বিধায়কদের একাংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সরব হয়ে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করেন। এরই মধ্যে নিজের তৈরি দলের নাম ও প্রতীকও হারান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের দুই শিবিরের লড়াইয়ের ফলে নির্বাচন কমিশন আপাতত তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দিয়েছে।
মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় এবং অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় দু'জনই জেড প্লাস নিরাপত্তা পেতেন। কিন্তু বিধানসভা ভোটে হেরে যাওয়ার পর থেকে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় এবং অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের অতিরিক্ত নিরাপত্তা কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরেও কমানো হয়েছে নিরাপত্তা। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট, কালীঘাট রোড, ক্যামাক স্ট্রিটে সুরক্ষাতে কাটছাঁট করা হয়েছে। তুলে নেওয়া হয় বাড়ির সামনে রাস্তার 'সিজার্স ব্যারিকেড'। একইসঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের জন্য বরাদ্দ অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিশেষ পাইলট কারের সুবিধাও তুলে নেওয়া হয়। এরই মধ্যো জেড-প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাহারের অভিযোগ নিয়ে হাইকোর্টে দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
