নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে বিতর্কে এবার সরাসরি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দ্বারস্থ হল বিরোধী জোট INDIA। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের অভিযোগ জানাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বসার উদ্যোগ নিয়েছেন বিরোধী নেতারা। এই বৈঠক ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার রাত ৮টায় রাষ্ট্রপতি ভবনে বৈঠকের সময় নির্ধারিত হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা। সূত্রের খবর, ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিই এই সাক্ষাতের অন্যতম প্রধান বিষয়।
কেন ক্ষোভ বিরোধীদের?
বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং এর ফলে বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। এই ইস্যুতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে INDIA জোট। তবে বিরোধীদের তোলা অভিযোগগুলি এখনও অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরেই দিল্লিতে এই দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন চলছে। বুধবার সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিলের সময় রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতা আটক হন বলে খবর। বৃহস্পতিবার মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থল রাজঘাটে অবস্থান বিক্ষোভ করেন বিরোধী সাংসদরা। সেখানেও SIR এবং তথাকথিত ‘ভোট চুরি’ নিয়ে সরব হন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করতেই এই প্রতিবাদ।
রাষ্ট্রপতির বৈঠক ঘিরে কী নজর?
প্রথমে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও পরে রাত ৮টার সময় নির্ধারিত হয়। এই বৈঠকে বিরোধীরা নিজেদের অভিযোগ ও দাবি লিখিত স্মারকলিপির মাধ্যমে তুলে ধরতে পারেন। রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ জানাবেন।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, সংস্থার অভ্যন্তরে মতপার্থক্য বা ভিন্ন পর্যবেক্ষণ থাকা স্বাভাবিক এবং কমিশনের সিদ্ধান্তগুলি নির্ধারিত আইন ও বিধি মেনেই নেওয়া হয়। ফলে একদিকে বিরোধীদের লাগাতার আন্দোলন, অন্যদিকে কমিশনের অবস্থান—দুইয়ের মধ্যে সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই বৈঠকের পর বিরোধীরা পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেন, সেটাই এখন দেখার। তাঁদের দাবি মানা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার হবে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। SIR বিতর্কে রাষ্ট্রপতির কাছে বিরোধীদের বক্তব্য কতটা গুরুত্ব পায়, তার দিকেই এখন নজর গোটা দেশের।
