নয়াদিল্লি: সংগঠনের টিকিট মেলেনি। তবু পিছিয়ে যাননি। শেষ পর্যন্ত নির্দল প্রার্থী হয়েই ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। আর ফল বেরোতেই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে তৈরি হল নতুন নজির। ২০২৬-এর DUSU নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে জয়ী হলেন দীপাংশু শৌকিন। ৩০,৬১৫ ভোট পেয়ে তিনি হারিয়েছেন ABVP-র ইশু মৌর্য এবং NSUI-এর বীর ছত্রথকে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও নির্দল প্রার্থী সহ-সভাপতি পদে জয় পেলেন ।
দীপাংশুর জয়ের ব্যবধানও নজরকাড়া। তাঁর ঝুলিতে ৩০,৬১৫ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ABVP প্রার্থী ইশু মৌর্য পেয়েছেন ১৬,৯১০ ভোট। NSUI-এর বীর ছত্রথের ভোট ৪,৩১৩। অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীর সঙ্গে দীপাংশুর ব্যবধান ১৩,৭০৫ ভোট।
দীপাংশুর এই জয় আরও তাৎপর্যপূর্ণ তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার কারণে। তিনি আগে NSUI-এর হয়ে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সংগঠনের সমর্থন নিয়ে মনোনয়ন জমা দিলেও পরে তাঁকে সরে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। সংগঠনের প্রার্থী না হয়ে শেষ পর্যন্ত নির্দল হিসাবেই ভোটে লড়েন।
ফল ঘোষণার পর দীপাংশু জানান, তিনি এমন ফলের প্রত্যাশা করেছিলেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন কলেজে প্রচারে গিয়ে তিনি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত পড়ুয়াদের পাশাপাশি ‘সাধারণ’ এবং সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকা পড়ুয়াদেরও সমর্থন পেয়েছিলেন। তাঁর প্রচারের অন্যতম বার্তা ছিল ছাত্রদের সমস্যাকে সামনে রেখে DUSU-র ‘ভয়েস’ তুলে ধরা।
দীপাংশুর ব্যক্তিগত জীবনও উঠে এসেছে এই নির্বাচনের আলোচনায়। দিল্লির পীরাগড়ির বাসিন্দা তিনি। তাঁর বাবা বাস কন্ডাক্টর এবং মা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। ভগত সিংহ কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পরে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। বাবা চেয়েছিলেন, ছেলে UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নিক। কিন্তু দীপাংশু বেছে নেন ছাত্র রাজনীতির পথ।
সাম্প্রতিক একটি ঘটনাতেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। দিল্লির সত্য নিকেতনে PG আবাসনের একটি ভবন ভেঙে পাঁচ পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনার পর ছাত্র আবাসন এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে সরব হয়েছিলেন দীপাংশু। ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত চটি না পরার শপথও করেন ।
তবে DUSU-র বাকি তিনটি কেন্দ্রীয় পদে ফল অন্য রকম। সভাপতি পদে ABVP-র যশ দাবাস ২৪,৫৭৬ ভোট পেয়ে NSUI-এর বিজয় শঙ্কর মীনাকে হারিয়েছেন। বিজয় পেয়েছেন ২২,৫২৩ ভোট। সচিব পদে ABVP-র রিয়া ছাওধি ২১,৬৫০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। যুগ্ম সচিব পদে ABVP-র লক্ষয় রাজ সিংহ পেয়েছেন ১৬,৬১৫ ভোট। ফলে কেন্দ্রীয় প্যানেলের চারটি পদের মধ্যে তিনটিই গিয়েছে ABVP-র দখলে। সহ-সভাপতি পদটি পেয়েছেন নির্দল দীপাংশু।
এ বারের নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪০.৪৬ শতাংশ। ১৮ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণের পর শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় গণনা। মোট ২০ দফা গণনা শেষে ফল প্রকাশিত হয়।
ফল প্রকাশের আগে থেকেই সহ-সভাপতি পদে দীপাংশুর লড়াই নজর কেড়েছিল। গণনার প্রথম দিকের রাউন্ডগুলিতেও তিনি এগিয়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান আরও বাড়ে। সংগঠনের প্রার্থী না হয়েও বড় ব্যবধানে জয়—দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে ২০২৬-এর ফলাফলে তাই আলাদা করে জায়গা করে নিল দীপাংশুর নাম।