বর্ধমান, নিউজ ডেস্ক: দুই নেতার মধ্যে বচসা। রীতিমতো সেই বচসা পৌঁছে যায় প্রায় হাতাহাতিতে। আর সেই পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে রনং দেহি মূর্তি ধারণ করতে হল স্বয়ং থানার ডিউটি অফিসারকে। শুনতে কিছুটা অবাক লাগলেও বাস্তবে এমনই এক ঘটনার সাক্ষী থাকলো বর্ধমান জেলা।
বিজেপির পার্টি অফিস ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে ওঠে বর্ধমানের বেড়মোড় এলাকা। আর সেই উত্তেজনার আঁচ গিয়ে পড়ল থানা চত্বরেও। পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ নিয়ে থানায় হাজির দুই পক্ষ। কিন্তু সেখানে অভিযোগ জানাতে গিয়ে ফের বচসায় জড়িয়ে পড়লেন দুই বিজেপি নেতা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, শেষ পর্যন্ত থানার ডিউটি অফিসারকে কড়া ধমক দিয়ে তাঁদের থামাতে হয়। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশ অফিসারদের।
শুক্রবার গভীর রাতে এই ঘটনাটি ঘটে বর্ধমানের বেড়মোড় এলাকাতে। এইদিন গভীর রাতে বর্ধমান চার নম্বর মণ্ডলের বিজেপি পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। মণ্ডল সভাপতি অমিতেন্দু চন্দ্র ওরফে রাজুর অভিযোগ, দলেরই মণ্ডল সাধারণ সম্পাদক মনোজ চক্রবর্তীর লোকজন আচমকাই পার্টি অফিসে হামলা চালায়। অভিযোগ, হামলার সময় ব্যাপক ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। পার্টি অফিসের বাইরে থাকা বাইকেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর। পরিস্থিতি একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এই ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বর্ধমান থানার পুলিশ। পুলিশি হস্তক্ষেপে কোনওরকমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে সেই সময়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর দুই পক্ষকে থানায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু সেখানেও থামেনি বাকযুদ্ধ। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই থানার চত্বরে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। মণ্ডল সভাপতি এবং মণ্ডল সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে শুরু হয় বচসা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত কড়া অবস্থান নেন থানার ডিউটি অফিসার।
দুই নেতাকে উদ্দেশ্য করে থানার ডিউটি অফিসার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিজেদের মধ্যে কোনও সমস্যা থাকলে থানায় অভিযোগ করতে পারেন, পুলিশ তা শুনবে। কিন্তু থানার ভিতরে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, “আপনাদের নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হলে কমপ্লেন করবেন, আমরা শুনব। কিন্তু থানার মধ্যে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না। থানার মধ্যে আপনারা এগুলো কি করছেন? এসব কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না”
দুই নেতা একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করে। যদিও এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। দুই বিজেপি নেতার মধ্যে বিবাদের কারণ সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে পার্টি অফিসের বাইরে শুরু হওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন বর্ধমান পুলিশের তদন্তের আওতায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধী দুই দলের মধ্যে নয় নিজেদের দলের নেতাদের মধ্যেই এই বাকবিতণ্ডা। যা বর্ধমানের জেলা রাজনীতির নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
