কলকাতা, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: দ্বিতীয়ার্ধ গোলশূন্য। তাতে কীই বা এসে যায় যদি হাইভোল্টেজ ফাইনালের ফলাফল প্রথম ৪৫ মিনিটেই লেখা হয়ে যায়! হ্যাঁ, প্রথমার্ধেই ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়া। তার পর দ্বিতীয়ার্ধে সেই স্কোরলাইন বজায় রাখা। রবিবাসরীয় যুবভারতীর বুকে এভাবেই ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফের ডুরান্ড কাপ ট্রফি ঘরে তুলল অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাসের ইস্টবেঙ্গল। নেপথ্যে এডমুন্ড লালরিনডিকার হ্যাটট্রিক। ডার্বির মহারণে তাঁর দাপটে কার্যত খড়কুটোর মতোই উড়ে গেল সবুজ-মেরুন বাহিনী।
এই বছরই প্রথমবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইস্টবেঙ্গল। একই বছরে এল ডুরান্ডও। যদিও ফাইনালের আগে শক্তির বিচারে খাতায়-কলমে এগিয়েছিল মোহনবাগানই। সেই কাগুজে তথ্যকে একেবারে ধূলিসাৎ করেই রবিবার ১৭ তম ডুরান্ড কাপ জয় মশাল বাহিনীর। ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে হাবাসের দল। খেলা শুরুর পর প্রথম কয়েক মিনিট বল মোহনবাগানের দখলে থাকলেও প্রথমার্ধেই নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করে নেন এডমুন্ড। আর তাতেই যুবভারতীর সবুজ গালিচায় রবিবারের কলকাতা ডার্বি হয়ে থাকল লাল-হলুদ উৎসবের রাত।
মাত্র ১০ মিনিটেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন বিপিন সিং। তাঁর গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। তার ঠিক দু’মিনিট পরেই জিকসন সিংয়ের পাস থেকে ব্যবধান বাড়ান এডমুন্ড। ২২ মিনিটে দানি রামিরেজের বাড়ানো বল থেকে আবারও গোল করে ৩-০ করেন সেই এডমুন্ড। মোহনবাগান তখন পুরোপুরি দিশেহারা। ৩২ মিনিটে মনবীর সিং দুরন্ত বাঁ-পায়ের শটে একটি গোল শোধ করলেও সবুজ-মেরুনের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা দ্রুতই মুছে যায়। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ফ্রিকিকের ছক থেকে জয় গুপ্তার বাড়ানো বলে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এডমুন্ড। ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।
দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান অবশ্য একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। লিস্টন, আপুইয়া এবং থাপার পরিবর্তে সাহাল, নাসিরি এবং টাংরিকে নামানো হয়। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারেনি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীরা। বরং ম্যাকলারেন-সহ মোহনবাগানের একাধিক তারকা সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি। ৬৫ মিনিটে বিপিনের দুরন্ত শট দুর্দান্তভাবে বাঁচান বিশাল কাইথ। ৭১ মিনিটে জেসিন টিকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। ফলে ব্যবধান আর বাড়েনি, আবার কমেওনি। শেষ পর্যন্ত ৪-১ জয়েই দীর্ঘ ২২ বছর পরে ডুরান্ডের মুকুট উঠল ইস্টবেঙ্গলের মাথায়। লেখা হল ইতিহাসের নতুন অধ্যায়।
একই সঙ্গে মোহনবাগানের সবথেকে বেশিবার ডুরান্ড জয়ের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলল ইস্টবেঙ্গল। এই মুহূর্তে দুই দলই ১৭ বার করে ডুরান্ড কাপ জিতেছে। এর আগে গত ২০২৩ সালের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মোহনবাগান। তাই এ বার ছিল আক্ষরিক অর্থেই বদলার লড়াই। যুবভারতীতে সেই বদলা পূরণের সাক্ষী থাকলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও ফুটবল প্রশাসনের কর্তারা। বাঙালির চিরন্তন ইলিশ-চিংড়ির দ্বৈরথে এ বার চিংড়ির স্বাদ ফিকে। ২২ বছর পর ডুরান্ডের মঞ্চে লাল-হলুদেই লেখা হল নতুন ইতিহাস।