কলকাতা, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: ২২ বছরের খরা কাটিয়ে রবিবার ১৭ তম ডুরান্ড কাপ জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। একই দিনে আরও একটি পালক যুক্ত হল লাল-হলুদ মুকুটে। ডুরান্ড ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে পুরুষ দল যখন ট্রফি তুলছে, ঠিক তখনই এশিয়ার মঞ্চে নিজেদের দাপটের প্রমাণ দিলেন ইস্টবেঙ্গলের মেয়েরাও। মালয়েশিয়ার সাবাহ এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরপর দ্বিতীয় বার এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূলপর্বে জায়গা করে নিল তারা। একই দিনে পুরুষ এবং মহিলা দলের জোড়া সাফল্য যেন লাল-হলুদ সমর্থকদের উৎসবকে দ্বিগুণ করে দিল।
মালয়েশিয়ার লিকাস স্টেডিয়ামে অবশ্য প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোনও দলই। কিন্তু বিরতির পর বদলে যায় ছবিটা। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। ৬৮ মিনিটে সেই চাপের সুফল মেলে হাতেনাতে। চলতি মরশুমেই ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেওয়া ঘানার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার অলিভিয়া আনোকে গোল করে এগিয়ে দেন মশাল গার্লসকে। বাছাই পর্বে তাঁর গোলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪। আগের ম্যাচেও রোভার্স এফসির বিরুদ্ধে একাই দু’টি গোল করেছিলেন অলিভিয়া।
এর পরেও অবশ্য সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে সাবাহ। বাছাই পর্বে মালয়েশিয়ার দলটিও দুরন্ত ছন্দে ছিল। রোভার্সকে ১৩ গোলে হারানোর পরে রাজশাহী স্টারসকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইস্টবেঙ্গলের সামনে অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে এসেছিল তারা। কিন্তু শেষ হাসি হাসল লাল-হলুদই। ৮৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করে ইস্টবেঙ্গলের জয় নিশ্চিত করে দেন সৌম্যা গুগুলথ। তার আগে বাছাই পর্বের প্রথম ম্যাচে রাজশাহী স্টারসকে ৪-০ এবং রোভার্স এফসিকে ১২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল তারা। অর্থাৎ তিন ম্যাচে তিন জয়, গোলের ব্যবধানও নজরকাড়া।
গত মরশুমেও এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূলপর্বে উঠেছিল ইস্টবেঙ্গল। গ্রুপে ইরানের বাম খাতুনকে হারালেও চিনের উহান জিয়াগদা এবং উজবেকিস্তানের নাসাফের কাছে হারতে হয়েছিল। ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় লাল-হলুদ মেয়েরা। এ বার সেই অভিজ্ঞতা সঙ্গে নিয়েই আরও বড় স্বপ্ন দেখছে তারা। ছেলেদের ডুরান্ড জয়ের দিনে মেয়েদের এশিয়ার মূল মঞ্চে ওঠা সেই স্বপ্নের শুরুটাকে আরও উজ্জ্বল করে দিল। সব মিলিয়ে রবিবারের রাতটা ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাসে লেখা হয়ে থাকল সোনার অক্ষরেই।