লখনউ: বাজার থেকে সবজি কিনে স্ত্রীর সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। আচমকাই বুকে অসহ্য যন্ত্রণা, তার পর রাস্তায় লুটিয়ে পড়লেন তিনি। চোখের সামনে স্বামীকে এ ভাবে পড়ে যেতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্ত্রী। আশপাশের লোকজনও বুঝতে পারছিলেন না, কী করবেন। ঠিক সেই সময় এগিয়ে এলেন এক পুলিশকর্মী। এক মুহূর্ত দেরি না করে শুরু করলেন কার্ডিয়োপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর)। তাঁর তৎপরতায় জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। লখনউয়ের এই ঘটনায় প্রশংসায় ভাসছেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কনস্টেবল সন্দীপ যাদব।
ঘটনাটি ১১ অক্টোবর, লখনউয়ের মহানগর চৌরাস্তার কাছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৬০ বছর বয়সি অনিল কুমার স্ত্রীর সঙ্গে বাজার থেকে সবজি কিনে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় আচমকাই তাঁর বুকে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। তার পর রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়ে যান তিনি। হাত থেকে ছিটকে পড়ে সবজির থলিও। অসুস্থ ব্যক্তিকে ওই অবস্থায় দেখে ঘাবড়ে যান তাঁর স্ত্রী। আশপাশে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই সময় কাছেই ডিউটিতে ছিলেন রহিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল সন্দীপ যাদব। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত অসুস্থ ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যান তিনি। শুরু করেন সিপিআর। এই পদ্ধতিতে বুকের মাঝখানে নির্দিষ্ট নিয়মে চাপ দিয়ে রক্তসঞ্চালন বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে গেলে বা স্বাভাবিক ভাবে রক্তসঞ্চালন না হলে প্রশিক্ষিত ব্যক্তির দেওয়া সিপিআর জরুরি চিকিৎসা পৌঁছনো পর্যন্ত রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
সন্দীপের তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়। পরে অসুস্থ অনিলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা যায়। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সঙ্কটের মুহূর্তে কনস্টেবলের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং প্রশিক্ষণ কাজে লেগেছে। তবে ওই প্রবীণের পরবর্তী শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সন্দীপের কাজের প্রশংসা করেছে লখনউ পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, জরুরি পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট না করে সঠিক পদক্ষেপ করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনা তারই উদাহরণ। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, বিপদের মুহূর্তে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোও পুলিশের দায়িত্বের অংশ।
সন্দীপের কাজের স্বীকৃতিও মিলেছে। লখনউয়ের পুলিশ কমিশনার তরুণ গাবা তাঁকে প্রশংসাপত্র দিয়ে সম্মানিত করেন। জরুরি পরিস্থিতিতে উপস্থিত বুদ্ধি, দ্রুত পদক্ষেপ এবং মানুষের জীবন রক্ষায় উদ্যোগী হওয়ার জন্য তাঁর প্রশংসা করা হয়। অন্য পুলিশকর্মীদেরও বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
চিকিৎসকদের মতে, হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলে প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময়ে দ্রুত সিপিআর শুরু করা এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার সাহায্য নেওয়া জীবন বাঁচাতে পারে। তবে সিপিআর দেওয়ার পদ্ধতি সঠিক ভাবে জানা প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ না থাকলে জরুরি পরিষেবার নির্দেশ মেনে চলা এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই সবচেয়ে জরুরি। লখনউয়ের ব্যস্ত রাস্তার এই ঘটনা আরও এক বার মনে করিয়ে দিল, বিপদের মুহূর্তে কয়েক মিনিটের তৎপরতাও কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এক প্রবীণকে রাস্তায় অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে কর্তব্যরত পুলিশকর্মী যে ভাবে এগিয়ে এসেছেন, তা মানবিক দায়িত্ববোধেরই পরিচয়।





