শিশুদের এক মুহূর্তের দুষ্টুমি টেনে আনলক ভয়ানক বিপদ। প্রাণ গেল এক প্রৌঢ়ের। ঘটনা কি ঘিরে চাঞ্চল্য জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির জোড়াপাকরি এলাকার। জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন ৫০ বছরের ভুগেল দাস। ঠিক সেই সময় স্থানীয় একটি স্কুল ছুটি হলে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন পড়ুয়া রাস্তার ধারে গাছে থাকা ভিমরুলের চাকে খেলার ছলে ঢিল ছোড়ে। আর তাতেই বাধে বিপত্তি।
ভিমরুলের চাক থেকে মুহূর্তেই বেরিয়ে আসে অসংখ্য ভীমরুল। আতঙ্কে সবাই এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করে। কিন্তু বয়সের কারণে দ্রুত সেই এলাকা ছাড়তে পারেনি ভুগেল দাস। একের পর এক ভিমরুলের কামড়ে গুরুতর জখম হন তিনি। কান ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে শুরু হয় রক্তক্ষরণ। ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কিন্তু হাসপাতালে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। প্রাণ হারান ওই পৌঢ়। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতি হয়েছে অনেকখানি। সেই কারণেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের অভিযোগ, ভূগোল বাবুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেও ঠিকঠাক ভাবে তার চিকিৎসা হয়নি। হাসপাতালের গাফিলতি হয়েছে বেশিরভাগ সময়তেই। তাই শুধুমাত্র বাচ্চাদের দুষ্টুমির জন্যই এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে তা নয় একইভাবে হাসপাতালও দায়ী বলে অভিযোগ করেন তারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। যদিও হাসপাতালে পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
শিশুদের কয়েক মুহূর্তের দুষ্টুমি ও আনন্দের কারণে মুহূর্তেই নিভে গেল একটি প্রাণ। ডেকে আনলো পরিবারে বিপর্যয়। এই ঘটনা আবারো প্রমাণ করে দিল সামান্য সতর্কতার অভাবে জীবন নিয়ে টানাটানি হতে পারে।