নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী তালিকার Special Intensive Revision (SIR) ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের খবর সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে সেই জল্পনার মধ্যেই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, SIR-সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি তিন নির্বাচন কমিশনারের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে এবং কমিশনের সিদ্ধান্তে কোনও অভ্যন্তরীণ বিভাজন নেই। বর্তমানে কমিশনে রয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী।
এর আগে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, গত প্রায় ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। অভিযোগের পরিধিতে ছিল নতুন ভোটারদের জন্য Form 6-এ পরিবর্তন, ভোটার তালিকার তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশাধিকার, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া ও পুনরায় অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া এবং পশ্চিমবঙ্গে SIR-পরবর্তী আপিল সংক্রান্ত বিষয়।
বিশেষ করে Form 6 নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত এই ফর্মে SIR-এর পুরনো ভোটার তালিকায় আবেদনকারী বা তাঁর বাবা-মা কিংবা দাদা-দিদার নাম ছিল কি না, সেই সংক্রান্ত প্রশ্ন যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আপত্তির কথা সামনে আসে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, এই পরিবর্তনের আইনি ভিত্তি নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারই প্রশ্ন তুলেছিলেন।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ইলেকটোরাল রোলের ডিজিটাল ডেটাবেসে প্রবেশাধিকার। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা পরিচালনার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় স্তরে নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সংশ্লিষ্ট নির্বাচন আধিকারিকদের আইনসঙ্গত ক্ষমতা এবং ডেটাবেসে তাঁদের প্রয়োজনীয় অ্যাক্সেস বজায় রাখার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশের কথা বলা হয়।
পশ্চিমবঙ্গের SIR নিয়েও বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যে SIR-পরবর্তী ভোটার তালিকা নিয়ে বহু আপিল বিচারাধীন রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, বাদ পড়া ভোটারদের পুনরায় অন্তর্ভুক্তির আবেদনসহ মোট কয়েক দশক লক্ষ আপিল জমা পড়েছে।
প্রতিবেদনে গোয়ার ৯৭ জন ভোটারের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে Electoral Registration Officer-রা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের যোগ্য বলে বিবেচনা করলেও সফটওয়্যার-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যুক্ত করা যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এসব ঘটনাকে কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে ‘অভ্যন্তরীণ বিরোধ’ হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। কমিশনের তরফে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি সম্মিলিতভাবেই অনুমোদিত হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের Chief Election Commissioner and Other Election Commissioners Act-এর ১৮ নম্বর ধারায় কমিশনের কাজকর্ম যতটা সম্ভব সর্বসম্মতভাবে পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। মতপার্থক্য দেখা দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
ফলে একদিকে দুই কমিশনারের কথিত লিখিত আপত্তির খবর, অন্যদিকে কমিশনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত হওয়ার দাবি, এই দুই বক্তব্যকে ঘিরেই এখন জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি প্রশাসনিক মহলেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসায় ভোটার তালিকা সংশোধন, নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি এবং নির্বাচন ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো নিয়ে স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়াগত প্রশ্নগুলি আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
