নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ি নদীর তীব্র স্রোতের সঙ্গে মরণপণ লড়াই করছিল একটি ছোট্ট হাতিছানা। জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে মাঝনদীতে ডুবে মৃত্যুর প্রহর গুনছিল সে। ঠিক সেই চরম মুহূর্তে দেবদূতের মতো এগিয়ে এসে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিলেন স্থানীয় কয়েকজন মৎস্যজীবী। তিস্তা নদীর বিপজ্জনক জলপ্রবাহকে উপেক্ষা করে নিজেদের কাঠের নৌকা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে শাবকটিকে মৃত্যুর মুখ থেকে ছিনিয়ে আনলেন তাঁরা। সম্প্রতি তিস্তার বুকে এই টানটান উদ্ধারকাজের হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই মৎস্যজীবীদের মানবিক প্রয়াসকে স্যালুট জানাচ্ছে নেটিজেনরা।
দেখুন: https://x.com/pooja_news/status/2102265015046934710?s=20
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্ভবত দল বেঁধে তিস্তা পার হওয়ার সময় কিংবা জল খেতে নেমে পাহাড়ি নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে যায় শাবকটি। বয়স কম হওয়ায় জলের টান সামলানোর ক্ষমতা তার ছিল না। ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই দলছুট হয়ে নদীর গভীর অংশে হাবুডুবু খেতে শুরু করে সে। আতঙ্কে শুঁড় উঁচিয়ে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছিল অবলা প্রাণীটি।
ঠিক সেই সময়েই নদীতে মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত থাকা কয়েক জন মৎস্যজীবীর চোখে পড়ে দৃশ্যটি। বিন্দুমাত্র কালক্ষেপ না করে বা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি না ভেবেই তাঁরা দ্রুত নৌকা নিয়ে এগিয়ে যান ভেসে যাওয়া হস্তিশাবকটির দিকে। উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে ছোট নৌকার ভারসাম্য বজায় রাখা এমনিতেই কঠিন, তার ওপর একটি বন্য জন্তুর কাছে পৌঁছানো ছিল চূড়ান্ত বিপজ্জনক। কিন্তু অদম্য ধৈর্যের সঙ্গে তাঁরা ছানাটির কাছে পৌঁছান এবং অত্যন্ত সতর্কভাবে সেটিকে নৌকার সঙ্গে আগলে রেখে ধীরে ধীরে নিরাপদ তীরের দিকে নিয়ে আসেন।
নদীর পাড়ে নিয়ে আসার পর হাঁপাতে থাকা ভীত শাবকটিকে পরম যত্নে শান্ত করেন উদ্ধারকারীরা। এরপরই স্থানীয় বন দফতরে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হস্তিশাবকটির প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা করেন।
বন আধিকারিকদের মতে, মৎস্যজীবীদের উপস্থিত বুদ্ধি ও তাৎক্ষণিক তৎপরতা না থাকলে হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই জলের তোড়ে তলিয়ে যেত হস্তিশাবকটি। প্রাথমিক শুশ্রূষার পর শাবকটিকে তার দলের সঙ্গে ফের মিলিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।




