বরানগর , রেশমি ব্যানার্জি: গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে রবিবার সকাল থেকে উত্তপ্ত বরানগরের অশোকগড়। মৃতার নাম রিয়া পাল। বাড়ি থেকে ৩২ বছরের রিয়া পালের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। মৃতার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের উপর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। ঘটনার তদন্তে মৃতার স্বামী মানস দাস ও শাশুড়িকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই দুজনের কঠোর শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভে বিজেপির স্থানীয় কর্মীরাও যোগ দেন বলে জানা গিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহিনী পৌঁছয়। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। এরপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, অশোকগড় এলাকায় নিজের শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন রিয়া পাল। রবিবার তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হন এলাকার মানুষজন। মৃতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন তাঁরা।
এরপর পুলিশ মৃতার স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ক্ষোভ আরও বাড়ে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ঘটনাটি নিছক আত্মহত্যা কি না ,তা খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আটক করা দুজনের শাস্তির দাবিতে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব সহ সভাপতি ও অংশ নেন বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করেন। পাল্টা পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, রিয়ার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির উপর এখন নির্ভর করছে মৃত্যুর আসল কারণের হদিস।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে অশোকগড়ে এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশের তরফে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। একইসঙ্গে মৃতার পরিবারের অভিযোগ ও বিক্ষোভকারীদের দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।