নিউজ ডেস্ক: ট্র্যাকের বাকি প্রতিযোগীদের পায়ে দামি রানিং শু, গায়ে আধুনিক ট্র্যাকস্যুট। তাঁদের মাঝেই হঠাৎ সবার নজর থমকে দাঁড়াল বছর তিরিশের এক মহিলার দিকে। পরনে সাধারণ একটি নীল শাড়ি, পায়ে নেই জুতো, এমনকি চটি জোড়াও একপাশে খুলে রাখা। প্রথম দেখায় দ্বিধা বা সঙ্কোচ লাগলেও, বাঁশির আওয়াজ পড়তেই বদলে গেল সব ছবি।
বাঁশি বাজতেই নিজের অস্তিত্ব আর দুই সন্তানের ভবিষ্যতের তাগিদে ট্র্যাকে একাই যেন ইতিহাস লিখলেন তিনি।
ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার সোসো গ্রামের বাসিন্দা, বিধবা কবিতা কুমারী। হোম গার্ডের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১,৬০০ মিটারের কঠিন দৌড় খালি পায়ে, শাড়ি পরেই শেষ করলেন মাত্র আট মিনিটে!
সম্প্রতি রামগড়ের স্থানীয় স্টেডিয়ামে হোম গার্ড পদের জন্য শারীরিক সক্ষমতার ট্রায়াল চলছিল। নিয়ম অনুযায়ী মহিলাদের জন্য নির্ধারিত ১০ মিনিটে ১,৬০০ মিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। সেখানে কোনো ধরনের পেশাদারি পোশাক ও প্রস্তুতি ছাড়া, সম্পূর্ণ খালি পায়ে নেমে নির্ধারিত সময়ের আগেই দৌড় শেষ করে উপস্থিত সবাইকে তাজ্জব করে দেন কবিতা। ফিনিশ লাইনে পৌঁছানোর সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে সকলেই কুর্নিশ জানাচ্ছে তাঁর এই অদম্য জেদকে।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, শাড়ির কুঁচি শক্ত করে বেঁধে মাটি কামড়ে একের পর এক পাক দৌড়াচ্ছেন তিনি। ফিনিশ লাইন অতিক্রম করতেই চারপাশ থেকে হাততালির রোল ওঠে। ক্লান্ত শরীরে যখন তিনি মাটিতে বসে পড়ছিলেন, তখন অন্যান্য প্রতিযোগী ও স্বেচ্ছাসেবকরা ছুটে গিয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে দেন জলের বোতল। মুখে ক্লান্তির চেয়েও বেশি ছিল একরাশ স্বস্তি ও লড়াই জিতে নেওয়ার দীপ্তি।
https://x.com/IndianExpress/status/2107780301309333897?s=20
কবিতার এই দৌড় শুধুমাত্র চাকরির পরীক্ষা নয়, এটা ছিল জীবনের সমস্ত বাধা পেরিয়ে টিকে থাকার লড়াই।বছর তিনেক আগে অসুস্থতায় স্বামীকে হারান তিনি। স্বামীর চিকিৎসার জন্য হওয়া বিপুল ঋণ এবং শ্বশুর-শাশুড়ি ও দুই নাবালক সন্তানের অন্নসংস্থানের গুরুদায়িত্ব এসে পড়ে তাঁরই কাঁধে। ইট ভাটায় দিনমজুরি করে কোনোমতে দিন কাটছিল তাঁর। খেলার পোশাক বা জুতোর সামর্থ্য ছিল না, তাই ভোরে গ্রামের মেঠো পথেই চলত তাঁর একাকী অনুশীলন।
দৌড় শেষে হাঁপাতে হাঁপাতে কবিতা জানান, যখন মাঠে এসেছিলেন তখন অন্যদের পেশাদার সাজপোশাক দেখে বেশ কুণ্ঠাবোধ হয়েছিল কিন্তু একবার দৌড় শুরু করার পর তাঁর মাথায় শুধু ছিল তাঁর সন্তানদের মুখ আর হোম গার্ডের চাকরিটা পেলে একটা স্থায়ী রুজিরুটির স্বপ্ন।
