পুরুলিয়া , রেশমি ব্যানার্জি : আর পিছিয়ে থাকবে না জঙ্গলমহলে পুরুলিয়া জেলা। এবার বোকারো ভিলাইয়ের ধাঁচে উন্নত শহর হিসাবে গড়ে উঠতে চলেছে রঘুনাথপুর। রঘুনাথপুরে শিল্প কারখানার শিলান্যাসে এসে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। চার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ, ৫ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং ২০২৯ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা।
নতুন করে শিল্পাঞ্চলে আশার আলো দেখছে
রঘুনাথপুরবাসী। অমিত মেটালিক্স লিমিটেডের প্রস্তাবিত সমন্বিত ইস্পাত কারখানা। সোমবার ১৫১ একর জমির উপর এই বৃহৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। প্রস্তাবিত এই শিল্প কমপ্লেক্সে থাকবে পেলেট প্ল্যান্ট, DRI, রোলিং মিল, ফার্নেস, ব্রিক ইউনিট-সহ একাধিক পরিকাঠামো। প্রাথমিক পর্যায়ে উৎপাদন ক্ষমতা ১.২ MTPA ধরা হলেও প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে চালু হলে তা বেড়ে ২.০ MTPA হতে পারে। শিল্পের প্রয়োজন মেটাতে থাকছে ১৪৫ মেগাওয়াটের ক্যাপটিভ পাওয়ার ব্যবস্থা। তবে এই প্রকল্পের গুরুত্ব শুধু ইস্পাত উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। সংস্থার দাবি, প্রকল্পকে ঘিরে আনুষঙ্গিক শিল্প, MSME এবং লজিস্টিক্স পরিষেবার প্রসার ঘটতে পারে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি স্থানীয় কর্মসংস্থান হবে। বহু পরিযায়ী শ্রমিক পুরুলিয়া থেকে কাজের জন্য বাইরে চলে যায়। তাদের আর ভিন রাজ্যে যেতে হবে না। এই জেলাতেই মিলবে কাজ। এমনটাই আশা রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী ও সংস্থার কর্মকর্তারা।
রঘুনাথপুরে শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে প্রকল্প পরিকল্পনায়। WHRB-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, Zero Liquid Discharge, জল পুনর্ব্যবহার, Gas Cleaning Plants, ESPs এবং slag পুনর্ব্যবহারের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবেশ দূষণ না করে শিল্পের উন্নতি হবে আগামী দিনে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বোকারো এবং ভিলাইয়ের মতো উন্নত শহরের আদলে রঘুনাথপুরকে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর। সেই লক্ষ্যেই শিল্পের বিস্তার করছেন তিনি। তাদের সরকার জনগণের সরকার। জনগণের যে কাজে উন্নতি হবে সেই কাজ তাদের সরকার করবে।’
এ বিষয়ে অমিত মেটালিক্সের কর্ণধার অমিত সিং-এর বক্তব্য, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই স্থানীয় কর্মসংস্থান। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই প্রকল্পের কাজে স্থানীয় মানুষকে যুক্ত করা হয়েছে এবং আগামী দিনেও সেই ধারাই বজায় থাকবে। জেলার ছেলে মেয়েরাই তাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ পাবে প্রথম সারিতে।
শিল্প, কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো এবং স্থানীয় অর্থনীতির হাত ধরে এই প্রকল্প আগামী দিনে পুরুলিয়া চেহারাটাই বদলে দিতে চলেছে। রাজ্যের পালা বদলের পর পুরুলিয়ায় একেবারে মাস্টার স্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।