নিউজ ডেস্ক: অনলাইনে খাবার কেনাবেচায় নিয়মভঙ্গের অভিযোগে পাঁচটি নামী সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট ইন্ডিয়া, সুইগি ইনস্টামার্ট, জেপ্টো এবং বিগবাস্কেটের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (FSSI)। সংস্থার দাবি, কোথাও পণ্যের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর দাবি করা হয়েছে, তো কোথাও আবার নিষিদ্ধ বা বিষাক্ত খাদ্যপণ্য অনলাইনে প্রদর্শন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
https://x.com/stockcepe/status/2102966313853558936?s=20
গত ৬ মাসে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে FSSI। তারা জানিয়েছে, ‘হ্যাপিলো প্রিমিয়াম ডেট বাইটস—জেস্টি অরেঞ্জ’ নামের একটি খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা দাবি নিয়ে আপত্তি উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট ইন্ডিয়া, সুইগি ইনস্টামার্ট, জেপ্টো এবং বিগবাস্কেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সুইগি ইনস্টামার্ট এবং বিগবাস্কেটের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া মিল্কি মিস্টের কয়েকটি দুগ্ধজাত পণ্যের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দেশের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তালিকায় রয়েছে মিল্কি মিস্টের কম চর্বিযুক্ত ফ্রেশ ক্রিম, ফার্ম ফ্রেশ দই এবং গ্রিক ইয়োগার্ট। পণ্যের বিবরণ, লেবেল এবং বিভিন্ন দাবি সংশ্লিষ্ট খাদ্যবিধি মেনে করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এর মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর পণ্য হল, ধুতুরা। ধুতুরার ফল বা বীজ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি ও প্রদর্শনের অভিযোগে অ্যামাজন সেলার সার্ভিসেস, সুইগি ইনস্টামার্ট এবং বিগবাস্কেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শুরু করেছে FSSI। খাদ্য হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয় বা বিষাক্ত উপাদান সংক্রান্ত বিধিনিষেধ রয়েছে, এমন কোনও পণ্য কী ভাবে অনলাইন বিপণন ব্যবস্থায় জায়গা পেল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। ২০০৬ সালের খাদ্য সুরক্ষা ও মান আইন এবং সংশ্লিষ্ট বিধির ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ দিকে, FSSI-এর অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এখনও পর্যন্ত। খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থার পাশাপাশি অনলাইন বিপণন সংস্থাগুলির উপরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে FSSI। বিশেষ করে অনলাইনে খাদ্যপণ্যের বিবরণ, লেবেল, প্রচারমূলক দাবি এবং বিক্রির বৈধতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের সতর্ক করতেও সমাজ মাধ্যমে এই ধরনের অভিযানের তথ্য প্রকাশ করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। উৎসবের মরশুমে অনলাইনে কেনাকাটা বাড়ার আগে খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে নজরদারি আরও কড়া করারই ইঙ্গিত মিলেছে এই পদক্ষেপে।
