নিউজ ডেস্ক: ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের মধ্যে এ বার নজিরবিহীন মৃত্যুর সাক্ষী জার্মানি। চলতি গ্রীষ্মে সে দেশে তাপপ্রবাহের কারণে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১৫,৮০০ জনের। বৃহস্পতিবার জার্মানির জাতীয় জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রবল গরমের সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছেন প্রবীণেরা। বিশেষ করে ৭৫ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে মৃত্যুর হার ছিল সর্বাধিক।
পরিসংখ্যান বলছে, জুনের শেষ দিকে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের সময় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আকার নেয়। সে সময় জার্মানির বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। শুধু সেই মারাত্মক গরমের সপ্তাহেই মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছয় প্রায় ৯৬০০-তে। এর পর জুলাইয়ের শেষ থেকে অগাস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত আরও প্রায় ৪০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আরকেআই। অর্থাৎ, একের পর এক তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়েছে দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা।
শুধু জার্মানি নয়। এ বার গরম এবং খরার দাপটে কার্যত বিপর্যস্ত ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ভয়াবহ তাপপ্রবাহের জেরে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। আবার কোথাও দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষিও। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নদীতে জলস্তর নেমে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগামী দিনে আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে। ফলে প্রবীণ এবং শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষদের জন্য বাড়ছে ঝুঁকি।
আরকেআই জানিয়েছে, গত এক দশক ধরেই জার্মানিতে গরমে মৃত্যুর পরিসংখ্যান রাখা হচ্ছে। গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহ থাকা ও না-থাকা সপ্তাহের মৃত্যুহার তুলনা করেই তৈরি হয় এই হিসাব। এর আগে এই ধরণের মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০১৮ সালে। প্রায় ৮,৯০০। তারও আগে ১৯৯৪ সালে একটি চিকিৎসা বিষয়ক প্রকাশনায় প্রায় ১০ হাজার মৃত্যুর হিসাব দেওয়া হয়েছিল। অতিরিক্ত গরম সরাসরি হিটস্ট্রোকের কারণ হতে পারে। তবে হৃদ্যন্ত্র, ফুসফুস বা কিডনির মতো আগে থেকেই থাকা রোগের সঙ্গে মিলেই তা অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।