দীর্ঘদিনের দাবি মেনে অবশেষে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল-কলেজে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের মাসিক পারিশ্রমিক বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রথমবারের মতো তাঁদের বদলির ক্ষেত্রেও আনা হচ্ছে নির্দিষ্ট নীতি। মঙ্গলবার এই ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
মন্ত্রী জানান, চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধি এবং বদলির সুযোগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই দাবি বিবেচনা করেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর কথায়, "চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করেই পারিশ্রমিক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বদলির জন্যও স্বচ্ছ ও সুসংহত নীতি আনা হচ্ছে, যাতে কর্মীদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হয়।"
শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে রাজ্যের হাজার হাজার চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক, লাইব্রেরিয়ান, ল্যাবরেটরি কর্মী এবং অন্যান্য শিক্ষাকর্মী উপকৃত হবেন। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বদলির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করা হয়েছে।
নতুন নীতি অনুযায়ী, শূন্যপদ, কর্মস্থলের প্রয়োজন, চাকরির মেয়াদ এবং মানবিক কারণ—সবকিছু বিবেচনা করে বদলির আবেদন খতিয়ে দেখা হবে। পারিবারিক সমস্যা, স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল, শারীরিক অসুস্থতার মতো বিষয়গুলিও গুরুত্ব পাবে বলে শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, খুব শীঘ্রই বেতন বৃদ্ধির হার, কোন কোন কর্মী এই সুবিধার আওতায় আসবেন এবং বদলির আবেদনপদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে।
সরকারের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের একাংশ। তবে তাঁদের দাবি, বেতন বৃদ্ধি ও বদলি নীতির পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাকরির নিরাপত্তা, নির্দিষ্ট পরিষেবা বিধি এবং স্থায়ীকরণের বিষয়েও সরকারকে স্পষ্ট রূপরেখা ঘোষণা করতে হবে।