নিউজ ডেস্ক: ইলিশ মানেই বাঙালির আবেগ। পাতে গরম ভাত, সর্ষের ঝোল আর ইলিশ এই স্বাদকে ঘিরে বাঙালির নস্টালজিয়া বহুদিনের। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই চেনা ছবিতেই বদল দেখা যাচ্ছে। পদ্মা বা গঙ্গা-হুগলির ইলিশের পাশাপাশি বাংলার বাজারে ক্রমেই বাড়ছে গুজরাটের ভারুচ থেকে আসা ইলিশের জোগান। শুধু পশ্চিমবঙ্গের বাজারেই নয়, এই গুজরাটি ইলিশ এবার পৌঁছে যাচ্ছে বাংলাদেশেও।
গুজরাটের ভারুচে নর্মদা নদী আরব সাগরে মিশেছে। সেই মোহনা ও সংলগ্ন জলভাগে সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গুজরাট সরকারের মৎস্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যে ইলিশের উৎপাদন ১৪,৫৮৭.৭২ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ভারুচ জেলার অবদানই ৭,৪১০.০৯ মেট্রিক টন।
ভারুচের এই বিপুল উৎপাদনের প্রভাব পড়েছে কলকাতা ও হাওড়ার মাছের বাজারেও। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, গুজরাট থেকে নিয়মিত ইলিশ আসছে এবং বাজারের জোগান ধরে রাখতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সেখানেও ভারতীয় ইলিশের চাহিদা তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল, এবার বাণিজ্যের চেনা ছবিটাই যেন উল্টে গিয়েছে। গত দুই মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ রফতানি হয়েছে বলে ব্যবসায়ী মহলের দাবি। আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। এই চালানের বড় অংশই গুজরাট থেকে এসেছে এবং ভারুচ বন্দরের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। কিছু মাছ হাওড়ার পাইকারি বাজার হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশে গুজরাটের ইলিশের চাহিদার অন্যতম কারণ এর ডিম। ব্যবসায়ীদের মতে, এই মাছের ডিমের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বাংলাদেশের কিছু বাজারে বিশেষ চাহিদা রয়েছে। চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো এলাকায় ডিমভরা ইলিশের চাহিদা উল্লেখযোগ্য বলে জানা যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ডিম আলাদা করে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে, আবার মাছ নোনা বা শুঁটকি করেও বাজারজাত করা হচ্ছে।
তবে গুজরাটের ইলিশের স্বাদ নিয়ে বাঙালি ক্রেতাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেকের কাছে পদ্মা বা গঙ্গা-হুগলির ইলিশের স্বাদ, তেল ও গন্ধ এখনও আলাদা। ফলে গুজরাটি ইলিশ বাজারে জোগান বাড়ালেও বাঙালির রসনায় ঐতিহ্যবাহী ইলিশের জায়গা কতটা বদলাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
একদিকে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে ইলিশের জোগান নিয়ে চাপ, অন্যদিকে গুজরাটে উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সব মিলিয়ে ইলিশের বাজারে তৈরি হয়েছে এক নতুন সমীকরণ। আর সেই সমীকরণেই এবার সামনে চলে এসেছে ভারুচের ইলিশ।