নিউজ ডেস্ক: ইন্দোরে রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রদের গুঞ্জন’ কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শনিবারের অনুষ্ঠানে মঞ্চে এক শিল্পীর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুকরণ করে একটি ব্যঙ্গাত্মক পরিবেশনা ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মঞ্চের ওই পরিবেশনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপি নেতারা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথাবার্তা ও অঙ্গভঙ্গির অনুকরণ করছেন। বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ও আলিঙ্গনের প্রসঙ্গ নিয়েও ব্যঙ্গাত্মক অভিনয় করা হয়। ওই সময় রাহুল গান্ধী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এবং পরিবেশনার সময় তাঁকে হাসতে দেখা যায়। ঘটনাটি সামনে আসার পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় চাপানউতোর।
বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদকে নিয়ে এমন পরিবেশনা করা হয়েছে এবং রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে তা হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত মাকে নিয়েও পরিবেশনায় কটাক্ষ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি নেতারা প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। তবে পুরো ঘটনাটিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনেও ভিন্ন তথ্য রয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ‘ছাত্রদের গুঞ্জন’ কর্মসূচির মূল বিষয় ছিল শিক্ষা, চাকরি, নিয়োগ এবং পড়ুয়াদের বিভিন্ন সমস্যা। ইন্দোরের অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী ছাত্রদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে তাঁদের বিভিন্ন অভিযোগ শোনেন। তাঁর বক্তব্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনাও উঠে আসে।
রাহুল গান্ধী দাবি করেন, দেশের বর্তমান ‘সিস্টেম’ প্রশ্ন করা ছাত্রদের ভয় পায়। তাঁর বক্তব্যে ‘অন্ধভক্ত’ শব্দটিও উঠে আসে। তিনি বলেন, ছাত্রদের স্বভাবই হল প্রশ্ন করা, নতুন কিছু জানতে চাওয়া এবং কৌতূহলী থাকা। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়োগ, শিক্ষক পদে শূন্যতা এবং বিভিন্ন পরীক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের সমস্যার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রদেশের শিক্ষক নিয়োগপ্রার্থী এবং অন্যান্য পড়ুয়ারাও নিজেদের সমস্যার কথা জানান। শিক্ষক নিয়োগের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা, পরীক্ষার অনিয়ম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতার অভাবের মতো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রাহুল গান্ধী একটি চলমান শিক্ষক-চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কথাও জানান।
এই কর্মসূচির আয়োজন নিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কংগ্রেসের দাবি ছিল, ইন্দোরের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান করার অনুমতি না মেলায় কর্মসূচির তারিখ পরিবর্তন করতে হয়েছিল। পরে বিকল্প জায়গায় ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠানটি হয়।
সব মিলিয়ে, ছাত্রদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আয়োজিত রাহুল গান্ধীর কর্মসূচি মঞ্চের একটি ব্যঙ্গাত্মক পরিবেশনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। একদিকে বিজেপির তীব্র সমালোচনা, অন্যদিকে অনুষ্ঠানে উঠে আসা ছাত্রদের বিভিন্ন দাবি দুই দিক মিলিয়েই ইন্দোরের এই কর্মসূচি জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় রয়েছে।