নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প নিয়ে বড় তথ্য সামনে এসেছে। মুম্বই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১.১ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষ হতে সেই খরচ বেড়ে প্রায় ২.১ লক্ষ কোটি টাকা হতে পারে বলে রেল মন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় উঠে এসেছে। অর্থাৎ প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
২০১৫ সালে মুম্বই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি হয়। জাপানের জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি বা JICA-র সঙ্গে সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ তৈরিতে ১.১ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থ জাপানের ঋণের মাধ্যমে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সূচনার পর কাজ আরও গতি পায়। তবে নির্ধারিত ২০২৩ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্প শেষ করা সম্ভব হয়নি। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা এবং করোনা অতিমারীর সময় দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পের সময়সীমা পিছিয়ে যায়। সেই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রী, শ্রম ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধির প্রভাবও প্রকল্পের মোট ব্যয়ের উপর পড়েছে।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছর এই রুটে প্রথমবার বুলেট ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে। তবে শুরুতেই পুরো ৫০৮ কিলোমিটার পথে পরিষেবা চালু হবে না। প্রথম পর্যায়ে গুজরাটের সুরাট থেকে বিলিমোরা, প্রায় ৫০ কিলোমিটার অংশে ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো মুম্বই-আহমেদাবাদ রুটে পরিষেবা চালু করতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে এবং প্রকল্পের সম্পূর্ণ কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
পুরো প্রকল্পটি শেষ হলে মুম্বই ও আহমেদাবাদের মধ্যে ৫০৮ কিলোমিটার পথ জুড়ে চলবে হাই-স্পিড ট্রেন। মোট ১২টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে ৯টি স্টেশন গুজরাটে এবং তিনটি মহারাষ্ট্রে। মুম্বইয়ের স্টেশনটি ভূগর্ভস্থ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই প্রকল্পে জাপানের শিনকানসেন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতে বুলেট ট্রেনের কোচ তৈরির ক্ষেত্রেও দেশীয় উৎপাদনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একটি ট্রেনের আনুমানিক খরচ প্রায় ৩৯০-৪০০ কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ব্যয় কত দাঁড়াবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। সময়সীমা, নির্মাণের অগ্রগতি এবং বাকি কাজের ব্যয়ের উপরই শেষ পর্যন্ত মোট খরচ নির্ভর করবে।