নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার 'চোর-দুষ্কৃতী' এবং নিজের হাতে ভারতের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন। এমনকি জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতারির করা উচিত বলে সুর চড়ান মহুয়া।
মহুয়া মৈত্রের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের আরও দুই নির্বাচন কমিশনারও নাকি বহু সিদ্ধান্তের বিষয়ে অন্ধকারে ছিলেন। তাঁর দাবি, 'আরও দু’জন নির্বাচন কমিশনার ছিলেন, তাঁরাও জানতেন না এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে। তাঁদেরকেও অন্ধকারে রাখা হত।'
দেখুন: https://x.com/MahuaMoitra/status/2102768776769110308?s=20
নির্বাচন কমিশনের আইটি বিভাগের ডিজি সীমা খান্নাকেও এই প্রসঙ্গে কাঠগড়ায় তুলেছেন মহুয়া। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকার সফটওয়্যারে কারসাজি করা হয়েছে এবং ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ম্যানুপুলেশন হয়েছে। এর সঙ্গে সীমা খান্না যুক্ত বলেও দাবি করেন তিনি।
মহুয়া আরও বলেন, 'আমরা প্রচার করে, আন্দোলন করে কী করব? সিস্টেমই রিগড হয়ে আছে।' তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়ার ব্যবস্থার মধ্যেই কারসাজি করা হয়ে থাকলে শুধুমাত্র প্রচার বা আন্দোলনের মাধ্যমে তার মোকাবিলা করা কঠিন।
বুধবার, ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি গত ১০ মাসে কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় মতপার্থক্য বা পর্যবেক্ষণ থাকা স্বাভাবিক এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরেই জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে সরব হতে শুরু করে বিরোধী দল। এই ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তীব্র নিশানা করে বলেন, 'এই চেয়ারটা ওঁর জন্য নয়। এইজন্যই ২০২৪-এ বিজেপি জিতেছে। ২০২৫ ও ২০২৬-এ যত ভোট হয়েছে আপনার জন্য জিতেছে। নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির জন্য আমাদের কেন ভুগতে হবে ? উনি আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছেন।' একইসঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতারির দাবি তোলেন মমতা।
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ' সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে যে আর্টিকল বেরিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ৩০ লাখ লোককে বাদ দেওয়া হয়েছে, ভোট দিতে দেওয়া হয়নি একটা দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে। যে প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়নে নির্বাচন কমিশনারের পদে বসবে, সে তো প্রধানমন্ত্রীর হয়েই কাজ করবে। বিজেপি নেতাদের হয়েই কাজ করবে।'
তিনি আরও বলেন, 'জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত এবং আদালতের তত্ত্বাবধানে পুরো নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিজেপিকেও কটাক্ষ কলে বলেন, 'SIR-এ যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের আত্মীয়স্বজনদের অভিশাপই বিজেপির পতনের জন্য যথেষ্ট।'
