উত্তর ২৪ পরগনা, কেয়া মণ্ডল: হালিশহর থানার লকআপে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু। ঘটনায় এবার সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। সেদিন লকআপে ঠিক কী ঘটেছিল, কীভাবে বিরজু অচৈতন্য হয়ে পড়লেন এবং তাঁর মৃত্যুর নেপথ্যে কোনও গাফিলতি বা অনিয়ম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবেন সিআইডির আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই হালিশহর থানায় গিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারেন রাজ্য গোয়েন্দা দফতরের আধিকারিকরা।
গত ৬ অগাস্ট দুর্নীতি ও তোলাবাজিসহ একাধিক অভিযোগে কাঁচরাপাড়া পুরসভার পদত্যাগী তৃণমূল কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী বিরজু কেওটকে গ্ৰেফতার করেছিল হালিশহর থানার পুলিশ। গ্রেফতারের দু’দিন পর, ৮ অগস্ট ভোররাতে হালিশহর থানার লকআপ থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বিরজুর মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশি অত্যাচারের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার পর মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। মমতার দাবি, তাঁর গাড়িতে প্রচুর ইট ছোড়া হয়েছে এবং প্রায় এক ঘণ্টা তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, 'বিজেপির লোকজন জড়ো করেই এই বিক্ষোভ করানো হয়েছে। যে কর্মীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি যাচ্ছিলেন, সেই ঘটনায় প্রকৃত অভিযুক্ত এখনও বাইরে রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।'
এরপর উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে হালিশহরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কথা বলেন মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। সেখানে দাঁড়িয়েই তিনি বলেন, 'একটা লিখিত চিঠি আমাকে মৃতের স্ত্রী দিয়েছেন। মৃত্যুকে নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দেননি। তাই কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি।'
হালিশহরে গিয়ে কড়া অ্যাকশন নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হালিশহর থানার আইসি-কে ক্লোজ এবং থানার আইও-কে আপাতত সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বা এসডিও স্তরে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ঘটনার গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে জেলাশাসককেও তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই তদন্তের পাশাপাশি সিআইডির হাতে গেল গোটা ঘটনার তদন্তভার।