আসন্ন বিশ্বকাপে ভারতীয় হকি দলের ঐতিহ্যবাহী নীল জার্সির বদলে রং গেরুয়া করা হয়েছে। যা নিয়ে বিতর্ক গোটা দেশজুড়েই। এ বার সেই বিতর্কের আঁচ আরও বাড়িয়ে দিলেন খোদ হকি ইন্ডিয়ার সভাপতি দিলীপ তিরকে। তিনি নিজেই ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের কাছে এই ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁকে বা এক্সিকিউটিভ বোর্ডকে একবারও জানানো হয়নি। এমনকি ওড়িশা সরকারও এই বিষয়ে তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিরকে।
তিরকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তাঁর আপত্তি গেরুয়া রঙ নিয়ে নয়। বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে। জাতীয় দলের পরিচয়ের সঙ্গে জড়িত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্বাচিত নেতৃত্ব ও কার্যনির্বাহী বোর্ডে আলোচনা হওয়ার পরেই কার্যকর করা উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন। এই ঘটনার ফলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে হকি ইন্ডিয়ার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে।
চিঠিতে তিরকে লিখেছেন, বিশ্বকাপের আগে বিষয়টি যাতে অযথা রাজনৈতিক রং না পায়, সেই কারণেই তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে জার্সির রঙ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক কারণে নেওয়া হয়েছে। নীল টার্ফে খেলোয়াড়দের আরও স্পষ্টভাবে যাতে দেখা যায়, সেই উদ্দেশ্যেই এই পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তাদের কাছে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছেন, কার নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং কেন কার্যনির্বাহী বোর্ডকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি।
মাত্র একদিন আগেই একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিরকে বলেছিলেন, জার্সির রঙ পরিবর্তনকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা ঠিক নয়। তাঁর দাবি, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালেও ভারতের হকি দলের জার্সির রঙে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এমনকি তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনেও দল গাঢ় নীল জার্সি পরে খেলেছে। তবু সাম্প্রতিক ই-মেল আদানপ্রদান সামনে আসার পর বিষয়টা এখন যেন জলের মতোই স্পষ্ট। জার্সি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ঘিরে মতভেদ এবং প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে হকি ইন্ডিয়ার অন্দরেই।