স্পোর্টস ডেস্ক: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামলেই যেন অন্য মেজাজে ধরা দেয় ভারত। ক্রিকেট হোক কিংবা ফুটবল, প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই যেন অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হল না। পাকিস্তানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতায় শুভ সূচনা করল ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দল। তবে তিন গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত স্বস্তিতে থাকতে পারেনি নৌশাদ মুসার ছেলেরা। শেষ দিকে পাকিস্তানের জোড়া গোল ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে। শেষ মুহূর্তে গোলরক্ষক অর্শ শেখের দক্ষতায় কোনও রকমে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।
শুরু থেকেই পাকিস্তানকে চাপে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল ভারত। তৃতীয় মিনিটে মাংলেনথাং কিপগেনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও ভারতীয় আক্রমণের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে যায়। পাঁচ মিনিটের মাথায় প্রভুর লম্বা পাস থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অফসাইডের কারণে আটকে যান সুহেল ভাট। ১১ মিনিটে উভাইসের লম্বা থ্রো থেকেও বিপদ তৈরি হয় পাকিস্তানের বক্সে।
অবশেষে ১৩ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় ভারত। মহম্মদ সুহেলের বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে পাকিস্তানের জালে বল জড়িয়ে দেন সুহেল ভাট। প্রথম গোলের পর যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে ভারতীয় আক্রমণ। ১৯ মিনিটে ফের গোল। এবার অভিষেক সূর্যবংশীর দুর্দান্ত থ্রু পাস ধরে বক্সের বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে গোল করেন সুহেল। মাত্র ছ'মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে পাকিস্তানের রক্ষণকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দেন তিনি।
৩২ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করে ভারত। নওফল পিএনের পাস থেকে বাঁ পায়ের দুরন্ত শটে গোল করেন মাংলেনথাং কিপগেন। তখন মনে হচ্ছিল, পাকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারাতে চলেছে ভারত। কিন্তু ৩৪ মিনিটে অভিষেক সূর্যবংশীর ফাউলে পেনাল্টি পেয়ে যায় পাকিস্তান। যদিও শায়াক দস্তের নেওয়া স্পটকিক ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন সুহেল। কিন্তু কিপগেনের পাস থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের খোঁজে আক্রমণ চালায় ভারত। ৫৩ মিনিটে পাকিস্তানের গোলরক্ষক ইউসুফ বাটকে এগিয়ে আসতে দেখে চিপ করার চেষ্টা করেন কিপগেন। কিন্তু বল অল্পের জন্য ক্রসবারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৬০ মিনিটে আদিসন সিংয়ের শট আটকে দেন ইউসুফ। ৬২ মিনিটে শায়াক দস্তের হেড সামলে দেন অর্শ শেখ।
এর পরেও কিপগেন, অভিষেকদের সামনে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল। কিন্তু গোলের দেখা মেলেনি। ৮২ মিনিটে খাইমিনথাং লুংদিমের দূরপাল্লার শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। উলটে শেষ দিকে পরপর দু'গোল করে ভারতীয় শিবিরে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয় পাকিস্তান। তিন গোলের লিড মুহূর্তে নড়বড়ে হয়ে যায়। শেষ মুহূর্তে অর্শ শেখের দুরন্ত সেভ না থাকলে হয়তো পয়েন্ট হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হত। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ভারত। জয় দিয়ে সাফ অভিযান শুরু হলেও রক্ষণ নিয়ে যে নতুন করে ভাবতে হবে, তা বুঝিয়ে দিল এই ম্যাচ।




