স্পোর্টস ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ইতিহাস গড়েছে ভারত। ক্রাইস্টচার্চে চার উইকেটে জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে সূর্যকুমার যাদবের দল। ভারতের এই অবিশ্বাস্য জয়ের নেপথ্যে বড় ভূমিকা নিয়েছেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। ম্যাচের পর সেই সাফল্যের রহস্য সামনে আনলেন সঞ্জু। তাঁর বক্তব্য, কোনও জটিল পরিকল্পনা নয়, বরং নিজেদের স্বাভাবিক খেলা এবং ইতিবাচক মানসিকতাই বড় রান তাড়া করতে সাহায্য করেছে ভারতকে।
নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২২৫ রান তোলে। ফলে জিততে হলে ভারতকে করতে হত ২২৬ রান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই রান তাড়া করা সহজ কাজ ছিল না। কিন্তু শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ভারতীয় দল বুঝিয়ে দেয়, বড় লক্ষ্য দেখে তারা পিছিয়ে আসতে রাজি নয়।
ইনিংসের শুরুতে সঞ্জু ও অভিষেকের ব্যাটে কার্যত ঝড় ওঠে। মাত্র ৩৩ বলে ৬৭ রান করেন সঞ্জু। তাঁর ইনিংসে ছিল আটটি চার ও চারটি ছক্কা। অন্য দিকে, অভিষেক মাত্র ১২ বলে ২৯ রান করে ভারতকে দ্রুত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে দেন। দুই ওপেনার মিলে প্রথম উইকেটে মাত্র ৫.৫ ওভারে ৯৩ রান যোগ করেন। পাওয়ার প্লে-তে এই আগ্রাসী ব্যাটিংই ম্যাচের গতিপথ অনেকটা বদলে দেয়।
ম্যাচের পর সঞ্জু বলেন, ‘মাঝে আমাদের অনেক কথা হয়। কিন্তু সত্যি বলতে, সেগুলির কোনও জটিল অর্থ নেই। আমরা শুধু বলের দিকে নজর রাখি এবং জোরে মারার চেষ্টা করি। এই পদ্ধতি আমাদের জন্য খুব ভালো কাজ করছে। উপরের দিকে অভিষেকের সঙ্গে ব্যাট করতে আমার ভালো লাগে।’
সঞ্জুর কথায়, পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের শক্তির উপর আস্থা রাখাই ছিল তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। নতুন বলে সুইং ছিল। কিন্তু একই সঙ্গে বল ব্যাটেও ভালো আসছিল। তাই অযথা রক্ষণাত্মক হওয়ার পরিবর্তে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
সঞ্জু বলেন, ‘বল বেশ সুইং করছিল। আমার মনে হয়, দ্বিতীয় ইনিংসে সুইং কিছুটা বেশিই হচ্ছিল। কিন্তু পিচ থেকে বল ব্যাটে খুব ভালো আসছিল। তাই আমি এবং অভি ঠিক করেছিলাম, নিজেদের ব্যাটিংয়ের ভঙ্গি ঠিক রেখে পাওয়ার প্লে-তে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলব।’
শুধু ব্যক্তিগত রান করার কথা ভাবেননি দুই ওপেনার। তাঁদের লক্ষ্য ছিল, শুরুতেই নিউজিল্যান্ডের বোলারদের চাপে ফেলে দেওয়া। সঞ্জুর মতে, পাওয়ার প্লে-তে দ্রুত রান ওঠার পরই তাঁদের মনে হয়েছিল, ম্যাচ নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেও শেষ হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘শুরুটা যখন এত ভালো হল, তখন আমাদের মনে হয়েছিল, প্রথমার্ধের মধ্যেই ম্যাচ শেষ করে দেওয়া সম্ভব। ছয় ওভারে ৯০-এর কাছাকাছি রান—এটা দারুণ শুরু ছিল। তাই আমরা পুরোপুরি আক্রমণাত্মক থাকতে চেয়েছিলাম।’
তবে ভারতের জয় একেবারে নির্বিঘ্ন ছিল না। দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ার পর নিউজিল্যান্ডের স্পিনাররা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। সেই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেন শ্রেয়স আয়ার ও নমন ধীর। শ্রেয়স করেন ৪২ রান। নমনও ৪২ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। শেষ পর্যন্ত দুই বল বাকি থাকতে ২২৬ রান তুলে নেয় ভারত।
নিজের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সতীর্থদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেছেন সঞ্জু। তাঁর মতে, দলের প্রত্যেকের অবদানই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘জিততে পেরে খুব ভালো লাগছে। এই মুহূর্তে আমরা শুধু ম্যাচ জেতার আনন্দ উপভোগ করছি। আপনি দলের জন্য যতটুকুই অবদান রাখুন না কেন, শেষ পর্যন্ত দল জিতলে সেই অনুভূতিটা আলাদা।’
এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত। একই সঙ্গে বিদেশের মাটিতে বড় রান তাড়া করার ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের আগ্রাসী মানসিকতাও আরও এক বার সামনে এল। সঞ্জু-অভিষেকের ঝোড়ো শুরু এবং শ্রেয়স-নমনের দায়িত্বশীল ব্যাটিং বুঝিয়ে দিল, শুধু বড় লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষমতাই নয়, চাপের মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্যও রয়েছে এই ভারতীয় দলের।




