কলকাতা: ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ। তার প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়েছে আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যে। এর মধ্যেই সৌদি আরবে হাউথি হামলার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাব-আল-মান্দেব প্রণালীকে ঘিরে। এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথেও যদি নৌ চলাচল ব্যাহত হয়, তাহলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতেই ভারত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মান্দেব প্রণালী দিয়ে দেশের জ্বালানি সরবরাহ এখনও অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানান। সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে বেসামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। একইসঙ্গে লোহিত সাগর অঞ্চলে পরিস্থিতির অবনতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রণধীর জানান, ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সাউদের সঙ্গে হাউথি হামলা এবং গোটা অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ভারত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অবাধ নৌ চলাচলের বিষয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন বলেও জানান বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র।
মান্দেব প্রণালী নিয়ে উদ্বেগের মূল কারণ এর ভৌগোলিক অবস্থান। লোহিত সাগরের প্রবেশপথে অবস্থিত এই জলপথ এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সংযোগ। ভারত মহাসাগর থেকে লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালের মাধ্যমে ইউরোপের দিকে যাতায়াত করা বহু পণ্যবাহী জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে।
বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহণের ক্ষেত্রে বাব-আল-মান্দেব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবও এই জলপথকে নিজেদের তেল সরবরাহের বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহার করেছে। ফলে হরমুজ প্রণালীতে সমস্যা তৈরি হওয়ার পর মান্দেবেও যদি একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের জোগান নিয়ে চাপ আরও বাড়তে পারে।
ইয়েমেনের হাউথি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই লোহিত সাগর অঞ্চলে বিভিন্ন জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগে আন্তর্জাতিক আলোচনায় রয়েছে। এবার সৌদি ভূখণ্ডে তাদের হামলার ঘটনায় মান্দেব প্রণালী ঘিরে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্যে আপাতত কিছুটা স্বস্তির বার্তা রয়েছে। রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেছেন, হাউথি হামলার মধ্যেও মান্দেব প্রণালী দিয়ে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ চালু রয়েছে।
ভারতের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যে কোনও বড় ধরনের সরবরাহ-ব্যাঘাতের প্রভাব পরিবহণ খরচ থেকে শুরু করে শিল্প ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের উপরও পড়তে পারে। তাই হরমুজের পর মান্দেব পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখছে নয়াদিল্লি।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের বার্তা একদিকে যেমন আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপদ নৌ চলাচলের পক্ষে, অন্যদিকে দেশের জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার বিষয়েও আশ্বস্ত করছে। এখন নজর, লোহিত সাগর এবং বাব-আল-মান্দেব অঞ্চলে পরিস্থিতি আগামী দিনে কোন দিকে যায়।