নিউজ ডেস্ক: কলকাতার কসবার রাজডাঙায় মঙ্গলবার ইডি-র তল্লাশির পর নতুন করে আলোচনায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন। দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রিকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগের তদন্তের মধ্যেই সামনে এসেছে তাঁদের সম্পত্তি ও আয় সংক্রান্ত তথ্য। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় ইন্দ্রনীল সেন নিজের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীর সম্পত্তির বিস্তারিত হিসাবও উল্লেখ করেছিলেন।
হলফনামা অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে মধুছন্দা সেনের আয় ছিল ১১ লক্ষ ২৫ হাজার ৬১০ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে তা বেড়ে হয় ১৩ লক্ষ ৯৮ হাজার ৮৮০ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে আয় ছিল ১৫ লক্ষ ১৩ হাজার ৭৬০ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তাঁর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৪ লক্ষ ২৮ হাজার ৬৭০ টাকা। পরের অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৪-২৫-এ আয় ছিল ১৪ লক্ষ ৯১ হাজার ২৩০ টাকা।
হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মধুছন্দা সেনের হাতে নগদ ছিল ৮ হাজার ৪২০ টাকা। তাঁর একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা ছিল। বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ৯৭৬ টাকা, ৭ লক্ষ ১৯ হাজার ৫৮০ টাকা, ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৮০০ টাকা এবং ১০ লক্ষ ১৫ হাজার ৯০৫ টাকার মতো জমা থাকার উল্লেখ রয়েছে। মোট ১১টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য হলফনামায় দেওয়া হয়েছিল।
শুধু ব্যাঙ্কে থাকা টাকা নয়, তাঁর নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির কথাও উল্লেখ রয়েছে। হুগলির সিঙ্গুরে তাঁর জমি রয়েছে, যার ঘোষিত বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৯ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। পাশাপাশি ১,৩৯৪ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৩৮ লক্ষ ৬১ হাজার ১৫০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মধুছন্দা সেনের মোট অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৭০ হাজার ৬৪২ টাকা।
এবার নজরে ইন্দ্রনীল সেনের সম্পত্তির হিসাব। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর হাতে নগদ ছিল ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭৪০ টাকা। তাঁর একাধিক FD এবং ছয়টি সেভিংস অ্যাকাউন্টের তথ্যও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শেয়ার বাজারে ২৩টি বিনিয়োগের উল্লেখ রয়েছে।
ইন্দ্রনীল সেনের নামে দুটি গাড়িও রয়েছে। একটি ২০০৮ সালে এবং অন্যটি ২০১৬ সালে কেনা হয়েছিল। এছাড়া তাঁর কাছে ৩২ গ্রাম সোনা থাকার কথাও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩৬ লক্ষ ২৭ হাজার ৩৫১ টাকা বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।
স্থাবর সম্পত্তির হিসাবেও রয়েছে একাধিক সম্পত্তি। গড়িয়াহাট ও কসবায় দুটি কমার্শিয়াল বিল্ডিংয়ে তাঁর অংশ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ১৯৯৯ সালে এবং অন্যটি ২০০৯ সালে কেনা হয়েছিল। বর্তমান বাজারমূল্য হিসেবে ওই দুই সম্পত্তির মূল্য যথাক্রমে প্রায় ৫৫ লক্ষ ৮৮ হাজার ৩৬২ টাকা এবং ২ কোটি ৬ লক্ষ ৬৬ হাজার ৬৯৭ টাকা।
এছাড়া গড়িয়াহাট ও কসবায় দুটি ফ্ল্যাটের কথাও হলফনামায় রয়েছে। একটি ১৯৯৯ সালে ৬ লক্ষ টাকায় এবং অন্যটি ২০০৯ সালে ২০ লক্ষ ৩১ হাজার ৫০০ টাকায় কেনা হয়েছিল। ঘোষিত হিসাব অনুযায়ী, ইন্দ্রনীল সেনের মোট স্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লক্ষ ৩৬ হাজার ৬২৪ টাকা।
তবে হলফনামায় দেওয়া সম্পত্তির হিসাব এবং বর্তমানে ইডির তদন্তে উঠে আসা অভিযোগ, এই দু’টি বিষয়কে এক করে দেখা ঠিক নয়। সম্পত্তির তথ্য হলফনামায় প্রার্থীর দেওয়া ঘোষণা, আর ইডির তল্লাশি একটি চলমান তদন্তের অংশ। অভিযোগের সত্যতা শেষ পর্যন্ত তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।
