নয়াদিল্লি: ভারতের বাজারে অ্যাপলের দাপট যে ক্রমশ বাড়ছে, তা আরও একবার স্পষ্ট হল নতুন আইফোনের বিক্রিকে ঘিরে উন্মাদনায়। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দেশের একাধিক অ্যাপল স্টোরের সামনে ক্রেতাদের লম্বা লাইন দেখা যায়। শুক্রবার সকাল থেকে বিক্রি শুরুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই গ্রাহকদের ভিড় জমতে শুরু করে। নতুন আইফোন ঘিরে এই আগ্রহের মধ্যেই সামনে আসছে ভারতের অর্থনীতি ও মোবাইল উৎপাদন ক্ষেত্রের একটি বড় ছবি।
চলতি আর্থিক বছরে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার নিয়ে ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা। মুডিস ও গ্লোবালএনকে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে জাপানের ক্রেডিট রেটিং সংস্থা জেসিআর এবং ফিচও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিল।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে আইফোন বিক্রির সঙ্গে জিডিপি বৃদ্ধির সম্পর্ক কোথায়?
সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। তবে ভারতের মোবাইল ফোন উৎপাদন এবং রফতানি বাড়ার সঙ্গে বিষয়টির যোগ রয়েছে। দেশে গত কয়েক বছরে স্মার্টফোন ও ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন দ্রুত বেড়েছে। বিভিন্ন সংস্থা ভারতে উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করায় স্থানীয় উৎপাদন, রফতানি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অ্যাপলের ক্ষেত্রেও ভারতের গুরুত্ব এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি। সংস্থাটি শুধু এ দেশের বিশাল ভোক্তা বাজারের দিকে তাকিয়ে নেই, বরং ভারতকে উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করছে। আইফোনের বিভিন্ন মডেল ভারতে তৈরি হচ্ছে এবং দেশ থেকে বিদেশের বাজারেও ফোন রফতানি করা হচ্ছে।
নতুন আইফোনের দাম প্রিমিয়াম স্তরে থাকলেও অ্যাপলের কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে পুরনো মডেলগুলির ক্ষেত্রেও। নতুন মডেল বাজারে আসার পর পুরনো ফোন দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার বদলে বিভিন্ন দামের মডেল একসঙ্গে বাজারে রাখার কৌশল নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে তুলনামূলক কম বাজেটের ক্রেতাদের কাছেও আইফোন পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে এই কৌশল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন আইফোন মূলত উচ্চ আয়ের গ্রাহকদের কাছে বেশি জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু স্মার্টফোন বাজারের বিস্তার এবং মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপল আরও বড় গ্রাহকগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করছে।
বিশেষ করে ৪০-৫০ হাজার টাকার আশপাশে যদি আইফোনের কোনও মডেল পাওয়া যায়, তাহলে প্রিমিয়াম অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের একটি অংশকে আকৃষ্ট করার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে নতুন Pro ও Pro Max মডেলগুলি থাকছে উচ্চমূল্যের ক্রেতাদের জন্য।
শুধু বিক্রিই নয়, উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ভারত অ্যাপলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়লে সরাসরি লাভ হয় রফতানি, কারখানা, সরবরাহকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থানে। সেই কারণেই ভারতের স্মার্টফোন শিল্পের সম্প্রসারণকে বৃহত্তর অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে।
ফলে অ্যাপলের স্টোরের সামনে রাত থেকে তৈরি হওয়া লাইন শুধু নতুন আইফোনের প্রতি মানুষের আগ্রহের ছবি নয়। এর পিছনে রয়েছে ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা স্মার্টফোন বাজার, দেশীয় উৎপাদনের বিস্তার এবং বিশ্বের অন্যতম বড় ভোক্তা বাজার হিসেবে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব।




