নয়াদিল্লি: সূর্য ওঠার আগেই রাজধানীর যন্তর মন্তর কার্যত পরিণত হয় আন্দোলনের মঞ্চে। হাতে জাতীয় পতাকা, প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে ভোর থেকেই হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিড় জনসমুদ্রে পরিণত হয়। লাদাখের পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন ছাত্র, যুব, সমাজকর্মী, বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। একই সময়ে আমেরিকার নিউ ইয়র্ক, সান জোসে-সহ একাধিক শহরেও ভারতীয় প্রবাসীরা পথে নেমে সংহতির বার্তা দেন।
রাহুলের পাশে সোনম, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব বিরোধী শিবির
আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, ছাত্র-যুবদের ন্যায্য দাবিকে উপেক্ষা করে সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অবিলম্বে আলোচনায় বসারও দাবি জানান তিনি।
রাহুলের পাঁচ দফা দাবি
সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাহুল পাঁচটি নির্দিষ্ট দাবি সামনে আনেন—
১. শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ।
২. সোনম ওয়াংচুককে নিঃশর্ত মুক্তি ও তাঁর অনশন ঘিরে সরকারের পদক্ষেপের পূর্ণ ব্যাখ্যা।
৩. প্রশ্নফাঁস-সহ পরীক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির নিরপেক্ষ ও সময়বদ্ধ তদন্ত।
৪. পরীক্ষায় অনিয়ম এবং সেই কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
৫. শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং আন্দোলনকারীদের দাবিদাওয়া নিয়ে অবিলম্বে সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরু করা।
দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও প্রতিবাদের সুর
দিল্লির পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক, সান জোসে-সহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ভারতীয় প্রবাসীরাও বিক্ষোভে শামিল হন। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং জবাবদিহির প্রশ্নে সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন এখন আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পেয়েছে। তাই এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানানো প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
চাপ বাড়ছে কেন্দ্রের উপর
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যন্তর মন্তরে নজিরবিহীন জনসমাগম, বিদেশে একযোগে সংহতি কর্মসূচি এবং বিরোধী শিবিরের প্রকাশ্য সমর্থন— সব মিলিয়ে কেন্দ্রের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। তবে সরকার এখনও আন্দোলনের মূল দাবিগুলি নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করেনি। আন্দোলনকারীদের হুঁশিয়ারি, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।