প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে জাপান সরকার দ্বিতীয় রাজধানী গড়ার পরিকল্পনায় এগোচ্ছে। ভূমিকম্প ও সুনামিপ্রবণ দেশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি বিকল্প প্রশাসনিক কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি সেই পরিকল্পনাকে আইনি ভিত্তি দিতে জাপানের পার্লামেন্টে একটি বিল পাস হয়েছে।
বর্তমানে টোকিয়োকেই কেন্দ্র করে দেশের প্রায় সমস্ত প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দশকের মধ্যে টোকিয়ো ও তার আশপাশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানী অচল হয়ে গেলে যাতে সরকারের কাজকর্ম, জরুরি পরিষেবা এবং অর্থনীতি ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই বিকল্প রাজধানী গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের দাবি, দ্বিতীয় রাজধানী শুধু দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যই নয়, দেশের উন্নয়নকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। বর্তমানে জাপানের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ টোকিয়োকেন্দ্রিক এবং দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ এই মহানগর ও তার আশপাশে বসবাস করেন। ফলে প্রশাসন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের একটি অংশ অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
তবে কোন শহর দ্বিতীয় রাজধানীর মর্যাদা পাবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য তালিকায় ওসাকা, ফুকুওকা, আইচি, হোক্কাইডো ও মিয়াগির নাম উঠে এসেছে। সরকারের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, নির্বাচিত অঞ্চলকে তুলনামূলকভাবে দুর্যোগের ঝুঁকিমুক্ত হতে হবে এবং সেখানে পর্যাপ্ত প্রশাসনিক পরিকাঠামো, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও জনসংখ্যা থাকতে হবে।
অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দ্বিতীয় রাজধানী গড়ার পরিকল্পনার নেপথ্যে রাজনৈতিক সমীকরণও কাজ করছে। তাদের আশঙ্কা, নির্দিষ্ট কিছু শহরে অতিরিক্ত সরকারি বিনিয়োগ ও কর-সুবিধা দেওয়া হলে দেশের অন্যান্য অঞ্চল উন্নয়নের দৌড়ে পিছিয়ে পড়তে পারে।
বিশেষ করে ওসাকাকে ঘিরে আলোচনা সবচেয়ে বেশি। কারণ, ওসাকাভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরেই শহরটিকে দ্বিতীয় রাজধানী করার দাবি জানিয়ে আসছে। বর্তমান সরকার সেই দলের সমর্থন পাওয়ার পর বিষয়টি আরও গতি পেয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।
যদিও বিলটি সংসদে পাস হয়েছে, তবু দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে কোন শহরকে বেছে নেওয়া হবে এবং পরিকল্পনাটি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট শহরগুলির প্রস্তুতি, স্থানীয় জনসমর্থন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে জাপানের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ।