রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে আমরণ অনশনের মঞ্চেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লেন এক ছাত্র। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় সদর হাসপাতালে। এ দিকে সেই ঘটনার পরেই আরও চড়েছে উত্তেজনার পারদ। অনশনকারীদের অভিযোগ, বারবার দাবি জানানো হলেও চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি ঝাড়খণ্ড সরকার। ফলে শুক্রবার আন্দোলনের সুর আরও চড়িয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পদত্যাগ দাবিও তোলেন পড়ুয়ারা।
চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন শুক্রবার পৌঁছেছে ১৪ তম দিনে। ইতিমধ্যেই আমরণ অনশনে বসেছেন ৬ জন আন্দোলনকারী। এরই মধ্যে এ দিন আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন একজন। তাঁকে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছে সদর হাসপাতালে। তবে এর পরেও আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকারের তরফে কোনও স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত অনশন ভাঙবেন না তাঁরা।
তাদের তরফে 'রাজ্য বিধানসভা চলো' কর্মসূচিরও ডাক দেওয়া হয়েছে। অনশনরত এক ছাত্র সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দাবি না-মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আর এক আন্দোলনকারী সম্প্রতি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন, ‘‘যদি ধর্মেন্দ্র প্রধান পদ ছাড়তে পারেন, তবে হেমন্ত সোরেন কেন পারবেন না?’’ তাঁর দাবি, ছাত্রদের অভিযোগ সরকার গুরুত্ব দিয়েই দেখছে না।
ছাত্রদের আরও অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বেঙ্গালুরু সফর থেকে ফেরার পরও পরিস্থিতি নিয়ে কোনও উদ্যোগ নেননি। তাই মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকার নৈতিক অধিকার তিনি হারিয়েছেন বলেই দাবি আন্দোলনকারীদের একাংশের। সেই কারণেই দেওয়া হয়েছে রাজ্য বিধানসভা ঘেরাওয়ের ডাক। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরানো, অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, এই তিন দাবিতেই অনড় আন্দোলনকারীরা। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের নতুন দাবিকে ঘিরে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি ঝাড়খণ্ড সরকারের তরফে।