একে সমাপতন বলা যায় কী? আজ ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেনের জন্মদিন। আর আজই ছিল ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত ছাত্রদের বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি।সরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দুর্নীতি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার-অভিযোগ তুলে 'ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা' বা 'JLKM' র নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো 'বিধানসভা ঘেরাও' অভিযানে যোগ দিয়েছেন।
সবথেকে চোখে পড়ার মত ব্যাপার তিনি এই 'ঘেরাও কর্মসূচি'তে যোগ দেন অ্যাম্বুল্যান্সে চেপে! খোলা গলায় তার সাফ ঘোষনা-'ছাত্রদের দাবি সরকারকে শুনতেই হবে।'সাধারণ মানুষের কাছে দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো-র আবেদন 'আমি কোনও ভগবান বা মসিহা নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমার ব্যক্তিগত জীবনে কোনও পরিবর্তন আসবে না। কিন্তু অনশনের চেয়েও বেশি কষ্ট দিচ্ছে এই কাঁটাতারের বেড়া। ছাত্ররা তিন-তিনটে ব্যারিকেড টপকে এসেছে। সরকার কেন ছাত্রদের দাবি না মেনে রাজ্যে অরাজকতা চাইছে?'
ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেনের ছবি সামনে রেখে এই ছাত্রনেতার বক্তব্য 'অনশনে থাকলেও এই কাঁটাতারের বেড়া আমাদের আটকাতে পারবে না। আমি অ্যাম্বুলেন্সে করে এখানে এসেছি। সরকারকে আমাদের কথা শুনতেই হবে।'পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে বিধানসভা ঘেরাও করার লক্ষ্যে রাঁচিতে প্রচুর ছাত্রছাত্রী জড়ো হয়। কড়া নিরাপত্তা তথা ব্যারিকেডের মধ্যে দিয়েই ছাত্র-ছাত্রী মানবশৃঙ্খল তৈরি করে বিধানসভার দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। এক বিক্ষোভকারী সংবাদমাধ্যমকে জানান, 'আমরা আজ থামব না। আমাদের প্রথম দাবি JSSC-CGLপরীক্ষা বাতিল করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, সিবিআই তদন্ত করতে হবে।' আরেক বিক্ষোভকারী বলেছেন, 'ব্যারিকেড খুললে আমরা এগোব, তার আগে পর্যন্ত আমরা এখানেই বসে থাকব।'
ঝাড়খণ্ড সরকারের সমালোচনায় এক প্রতিবাদীর বক্তব্য, 'ঝাড়খণ্ড খনিজ সম্পদে ভরপুর একটি রাজ্য। গোটা দেশ ও বিশ্ব ঝাড়খণ্ডের খনিজ ব্যবহার করছে, আর এখানকার ছাত্রছাত্রীরা সরকারের নীতির কারণে অন্ধকারে ডুবে আছে। আজ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে তার জবাব চাই।' বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করতে থাকেন 'মিছিলে যোগ দিতে আসা অনেককে নিরাপত্তা কর্মীরা গাড়িসহ আটকে দিচ্ছে।'
মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কাছে আবেদন জানিয়ে ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো বলেন 'আজ মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের জন্মদিন। উনি এমন কোনও পদক্ষেপ যেন না নেন, যাতে দিল্লির যন্তর মন্তরের মতো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা এখানেও ঘটে। এমন কিছু করবেন না যাতে কারও রক্ত ঝরে বা কেউ আহত হয় এবং ভিড় আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। গ্রেফতারি একটি আইনি প্রক্রিয়া, কিন্তু রক্তপাত যেন না হয়। সরকার যদি দাবি না মানে, তবে গণতন্ত্রের হত্যাকারী হিসেবেই ইতিহাসে তাদের মনে রাখা হবে। আমি অনশন ভাঙব না।'
অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী ইরফান আনসারির বক্তব্য 'সরকার যুবকদের পাশেই আছে।' বিজেপির বিরুদ্ধে তার সংযোজন 'বিজেপি যুবকদের পথভ্রষ্ট করতে ওস্তাদ। আমরা যুবকদের সঙ্গে আছি, সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে। আমরা আলোচনা করছি এবং একটি সমাধান খুঁজে বের করব। আপনারা শান্তি বজায় রাখুন।'