প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিতে মুগ্ধ এনসিপিআই সাংসদ জুন মালিয়া। গত ৩১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র এবং মিজোরামের এনডিএ-র শরিক ও সহযোগী দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে আরও একবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। আর এই বৈঠকের পরেই সমাজ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার নানা দিক তুলে ধরেছেন জুন।
জুনের দাবি, বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলার ভবিষ্যৎ এবং তার সম্ভাবনা। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “বাংলার অপরিসীম সম্ভাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গভীর বিশ্বাস আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি চান, আগামী দিনে বাংলা আবারও সংস্কৃতি, জ্ঞানচর্চা এবং উন্নয়নের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।” পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলা মহান মনীষী, শিল্প, সাহিত্য, নতুন ভাবনা ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভূমি।
বৈঠকে শুধুমাত্র উন্নয়নের রূপরেখা নয়, জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নিয়েও এ দিন বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জুন জানিয়েছেন, “প্রতিদিনের জীবনে যোগব্যায়ামকে অন্তর্ভুক্ত করার এবং বছরে অন্তত একবার সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।” তাঁর কথায়, মানুষের সেবায় দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকতে হলে জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকাও সমান জরুরি। সেই প্রসঙ্গেই মোদীর বার্তা ছিল, “স্বাস্থ্যই সম্পদ।”
প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেও সময় দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন জুন। তাঁর বক্তব্য, “বাংলা ও দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তাঁর সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে আমাদের পরিচিত করানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।” একই সঙ্গে তিনি জানান, এই সাক্ষাৎ শুধু সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং উন্নয়ন, দায়িত্ববোধ এবং জনসেবার মতো বিষয়েও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা মিলেছে।
পোস্টের শেষাংশে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাই বিশেষ ভাবে তুলে ধরেছেন জুন। জানান, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছে, “নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা করা, মাটির কাছাকাছি থাকা, নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং আরও শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও সাংস্কৃতিকভাবে সমুজ্জ্বল ভারত গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করে যাওয়াই আমাদের দায়িত্ব।” তাঁর এই পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।