কাকদ্বীপ, নিউজ ডেস্ক: উৎসবের আবহের মাঝেই রাতের অন্ধকারে এক অন্য ছবি ধরা পড়ল দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে। এলাকার একাধিক জায়গায় পৌঁছে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করা এবং বেআইনি কাজ বন্ধের বার্তা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো চাঞ্চল্য। রাত পেরিয়ে সকাল পর্যন্ত চলল এই বিশেষ তৎপরতা। অভিযানে সামিল হন পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও। মহামায়ার আগমনের আগে এলাকায় কি বার্তা দিতে চাইলেন তাঁরা?
ঘটনাটি কাকদ্বীপ বিধানসভার নারায়নপুর এলাকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নারায়নপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি মাদকদ্রব্য বিক্রি ও গাঁজার কারবার চলছিল। একইসঙ্গে, অনলাইন ও প্রকাশ্যে জুয়ার আসর চলার অভিযোগও উঠছিল। এই পরিস্থিতিতে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং যুবসমাজকে নেশার কবল থেকে দূরে রাখার দাবিতে সরব হন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের এই উদ্যোগে অংশ নেন বিজেপি কর্মী সমর্থকেরাও। জানা গিয়েছে, রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে নারায়ণপুরে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করা হয়। কয়েকটি বাড়িতে গিয়েও বেআইনি মাদকদ্রব্য বিক্রি ও জুয়ার কারবার বন্ধ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি অভিযানকারীদের। তাঁদের বক্তব্য, এলাকায় শান্তি ও সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখতে এই ধরনের বেআইনি অসৎ কার্যকলাপ বন্ধ হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যাতে নেশার প্রতি আসক্ত না হয়ে পড়ে, সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন তাঁরা।
অভিযোগকারীদের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নারায়ণপুরে বেআইনি মাদকদ্রব্য বিক্রি বা জুয়ার আসর কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সতর্ক করার পরেও এই ধরনের কার্যকলাপ চলতে থাকলে প্রশাসনের দারস্ত হওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হবে। তবে, অভিযোগ গুলির বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে এলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।
মহামায়ার আগমনের আগে নারায়ণপুরে এই উদ্যোগের মাধ্যমে নেশা মুক্ত সমাজ গড়ার বার্তা দিতে চেয়েছেন অভিযানকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, মাদকদ্রব্য ও জুয়ার মত বেআইনি কার্যকলাপ এলাকার সামাজিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতি বদলাতেই এবার সরব হয়েছেন বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা। রাজ্যের পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রীর নেশা মুক্ত বাংলা গড়ার আহবানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন তাঁরা। তবে, এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক তদন্ত, নিয়মিত নজরদারি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ খুলতে পারে বলে মনে করা হয়েছে। এখন নজর, নারায়ণপুরের নেশা ও জুয়ার কারবার বন্ধ করার এই ডাক বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলে।
