কলকাতা: ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও করুণাময়ীতে থামল না কম্পিউটার শিক্ষকদের আন্দোলন। দুপুর গড়িয়ে রাত, রাত পেরিয়ে সকাল চাকরি বহালের দাবিতে এখনও অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তাঁদের বক্তব্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান থেকে তাঁরা সরবেন না।
করুণাময়ী চত্বরে রাতভর অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার পর বুধবার সকালেও আন্দোলনকারীদের জমায়েত দেখা যায়। শিক্ষকরা তাঁদের চাকরি বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁদের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতেই তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।
এর মধ্যেই বুধবার সকালে আন্দোলনস্থলে উত্তেজনা ছড়ায়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁদের কর্মসূচির মধ্যে এক বহিরাগত ঢুকে পড়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধরে তর্ক-বিতর্ক চলে। সেই সময় এক ব্যক্তিকে পুলিশ গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। তাঁকে পুলিশ থাপ্পড় মেরেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং ওই ব্যক্তিকে কেন আটক করা হয়েছিল, তা নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সবটা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড়। তাঁদের বক্তব্য, চাকরি বহালের বিষয়ে স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান চালিয়ে যাবেন। ফলে করুণাময়ীতে টানা দ্বিতীয় দিনেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
আন্দোলন ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষকরা। তাঁদের অভিযোগ, দাবি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বদলে আন্দোলনস্থলে পুলিশের উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কি না, সেটি প্রশাসনের বক্তব্যের ভিত্তিতেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবস্থান চলায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্লান্তি থাকলেও দাবির প্রশ্নে তাঁরা আপাতত পিছু হটতে নারাজ। সকাল থেকেই করুণাময়ীতে নতুন করে শিক্ষক-সমর্থকদের জমায়েত বাড়তে শুরু করেছে।
এখন মূল প্রশ্ন, সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনরত কম্পিউটার শিক্ষকদের কোনও আলোচনার মাধ্যমে জট কাটে কি না। নাকি চাকরি বহালের দাবিতে আরও দীর্ঘ হবে অবস্থান-বিক্ষোভ সেদিকেই নজর সকলের।
এদিকে, আন্দোলনকারীদের দাবি ঘিরে করুণাময়ী চত্বরে দিনভর সাধারণ মানুষের নজরও রয়েছে। অবস্থানস্থলে শিক্ষকরা নিজেদের দাবির সমর্থনে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন জানান। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকে কাজ করার পর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি চান তাঁরা।
অন্যদিকে, আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়েও প্রশাসনের নজর রয়েছে। শিক্ষকরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের দাবি জানালেও এখনও পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে প্রশাসনের কোনও স্থায়ী সমাধানসূত্র তৈরি হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে চাকরি বহালের দাবিতে করুণাময়ীতে কম্পিউটার শিক্ষকদের অবস্থান আরও কতদিন চলে, এখন সেদিকেই নজর।
