নিউজ ডেস্ক: সে ছিল কেরল পুলিশের ক্যানাইন স্কোয়াডের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এক সদস্য। নেশার কারবারের গন্ধ পেলেই তৎপর হয়ে উঠত। গত এক দশক ধরে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই কাজ করেছে সামান্থা। এ বার অবসান ঘটল সেই দায়িত্বেরই। অবসরে কেরল রাজ্য পুলিশের স্নিফার কুকুর সামান্থা। আর এই অবসরের দিন পাথানমথিট্টায় তার জন্য আয়োজন করা হল এক আবেগঘন বিদায় অনুষ্ঠানের। সেখানে বড় বড় পুলিশ আধিকারিদের উপস্থিতিতে শেষ হল সামান্থার গৌরবময় কর্মজীবনের একটি দীর্ঘ অধ্যায়।
কেরলের পাথানমথিট্টায় পুলিশের কে-৯ স্কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিল সামান্থা। যে কোনও প্রকার দ্রব্যের সন্ধানে তার ঘ্রাণশক্তির উপর বিশেষ ভরসা করতেন তদন্তকারীরা। একাধিক মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের সঙ্গে থেকে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে সামান্থা। দীর্ঘ ১০টি বছর ধরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল তার। ফলে, কর্মজীবনের শেষ দিনটিতে রীতিমতো আনুষ্ঠানিকভাবেই বিদায় জানানো হয় সামান্থাকে। বলাই বাহুল্য, উপস্থিত পুলিশকর্মীদের অনেকের কাছেই মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন।
সামান্থার অবসর অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দিয়েছেন জেলার পুলিশ প্রধান আর আনন্দ। পুলিশের তরফে তাকে সম্মান জানানো হয় তার দীর্ঘ এবং নিষ্ঠাবান পরিষেবার জন্য। এক দশক ধরে মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে পুলিশের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য সামান্থার অবদানও স্মরণ করা হয় এ সময়। সাধারণত পুলিশের কে-৯ স্কোয়াডের কুকুরদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নির্দিষ্ট দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা শুধু প্রশিক্ষিত সহকর্মীই নয়, সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের পরিবারেরও এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও হয়ে ওঠে। সামান্থার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
তবে অবসরের পর একেবারে অপরিচিত কোনও জায়গায় যেতে হচ্ছে না সামান্থাকে। এত দিন যে হ্যান্ডলার জর্জের সঙ্গে সে কাজ করেছে, অবসর জীবনও তাঁর সঙ্গেই কাটাবে সামান্থা। অর্থাৎ পুলিশের চাকরি শেষ হলেও সবথেকে চেনা মানুষটির সঙ্গেই থাকবে সে। ১০ বছরের কর্মজীবনের শেষে তাই তার বিদায়টা নিছক একটি সরকারি দায়িত্ব থেকে ছুটি নয়। বরং এক বিশ্বস্ত সহকর্মীকে বিদায় জানানোর মতোই। কেরল পুলিশের এই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সামান্থার কর্মজীবনের শেষ দিনে পুলিশকর্মীদের শ্রদ্ধা ও ভালবাসার ছবিই ফুটে উঠেছে সেই বিদায়ে।