নয়াদিল্লি: তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। তার পর থেকেই জল্পনা ছিল, এ বার কি পদ্মশিবিরের পথে হাঁটবেন কোয়েল মল্লিক? রবিবার সেই জল্পনাতেই কার্যত সিলমোহর পড়ল। তৃণমূলের ছেড়ে দেওয়া রাজ্যসভার আসনের উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে অভিনেত্রী কোয়েলের নাম ঘোষণা করা হল। অর্থাৎ যে আসন থেকে তৃণমূলের সাংসদ হয়েছিলেন, ইস্তফার পর সেই আসনেই বিজেপির টিকিটে ফের রাজ্যসভায় যাওয়ার পথে কোয়েল।
রাজ্যের বিধানসভা ভোটের পর তৃণমূলে ভাঙন শুরু হওয়ার সময় থেকেই কোয়েলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। গত ১৬ জুলাই দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সেখানেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফাপত্র জমা দেন কোয়েল। তাঁর ছেড়ে দেওয়া আসনেই আগামী ১৬ অক্টোবর, দুর্গাষষ্ঠীর দিন উপনির্বাচন হওয়ার কথা।
কোয়েলের আগে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছেড়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক। পরে তাঁদের তিন জনকেই বিজেপির প্রার্থী করে ফের রাজ্যসভায় পাঠানো হয়। ফলে কোয়েলের ক্ষেত্রেও একই সমীকরণ দেখা যেতে পারে—এমন জল্পনা শুরু হয়েছিল তাঁর ইস্তফার পর থেকেই। রবিবার বিজেপির সিদ্ধান্তে সেই জল্পনারই অবসান হল।
কোয়েলের ইস্তফার পর বিজেপির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছিল। ১৬ জুলাই সাংসদ পদ ছাড়ার পরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেছিলেন অভিনেত্রী। সেই সাক্ষাৎ ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। সেই সময় তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের একাংশও ভূপেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলে খবর ছড়িয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই সাংসদদের একাংশ ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’-য় যোগ দেন এবং নিজেদের এনডিএ-র শরিক হিসাবে দাবি করেন।
তবে কোয়েলের রাজনীতিতে আসা অবশ্য খুব বেশি দিনের নয়। গত ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূলের তরফে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। তাঁর সঙ্গে প্রার্থী করা হয়েছিল রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে। মার্চে নির্বাচনের পর রাজ্যসভার সাংসদ হন কোয়েল।
কিন্তু সাংসদ হওয়ার পর কোনও অধিবেশনেই যোগ দেননি তিনি। বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন। তার কয়েক মাসের মধ্যেই সেই আসনের উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণা হওয়ায় কোয়েলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এত দিন ধরে চলা জল্পনারও অবসান হল।
এখন প্রশ্ন, তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভায় যাওয়া কোয়েল বিজেপির প্রার্থী হিসাবে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে ফের সংসদের উচ্চকক্ষে ফিরতে পারেন কি না। আগামী ১৬ অক্টোবরের ভোটেই তার উত্তর মিলবে।
