নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং বিরোধী INDIA ব্লকের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমেছে বিরোধীরা। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল, ধরনা এবং একাধিক নেতার আটক হওয়ার পর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কৃষ্ণ পাল গুর্জর।
বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য, যে বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন, তা নিয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে কী লাভ? তাঁর অভিযোগ, সাংবিধানিক ও বিচারব্যবস্থার পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও বিরোধীরা রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা করছে। তাঁদের এই ধরনের আন্দোলন দেশের মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গত কয়েকদিন ধরে SIR এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে INDIA ব্লক। ৬ অক্টোবর দিল্লিতে বিরোধী সাংসদরা সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করেন। পুলিশ মিছিল আটকে দিলে রাস্তাতেই অবস্থানে বসে পড়েন তাঁরা। সেই বিক্ষোভে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সুপ্রিয়া সুলে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিরোধী নেতা ও সাংসদ অংশ নেন। পরে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।
বিরোধীদের মূল অভিযোগ, SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় অনিয়ম করা হচ্ছে এবং প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেছে INDIA ব্লক। ১৯টি বিরোধী দল যৌথভাবে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এবং অক্টোবরজুড়ে মিছিল, সমাবেশ ও জেলা স্তরে প্রতিবাদের পরিকল্পনা করেছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে, SIR সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে। কমিশনের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের যে দাবি উঠেছে, সেটিও তারা অস্বীকার করেছে।
৮ অক্টোবরও দিল্লি-সহ একাধিক জায়গায় আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। INDIA ব্লকের নেতারা জানিয়েছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন থামবে না।
ফলে SIR নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই এখন আর শুধু ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, বিরোধীদের প্রতিবাদের অধিকার এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা এই তিনটি প্রশ্নকে ঘিরেই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাত তৈরি হয়েছে।