নিউজ ডেস্ক: উত্তরপাড়ায় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে শনিবার নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। শ্রীরামপুরে নিজের সভায় যাওয়ার পথে কুণাল ঘোষের গাড়িতে ডিম, রড এবং পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরই সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে বিজেপির দাবি, এই ঘটনা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
শনিবার বিকেল ৪টে থেকে শ্রীরামপুরে সভা করার কথা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সভা করার অনুমতি পেয়েছেন তিনি। সেই সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময়ই কুণাল ঘোষের গাড়ি উত্তরপাড়ায় আক্রান্ত হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কুণাল ঘোষের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং তাঁর শরীরে কাচ ঢুকে গিয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তাঁর অভিযোগ, উত্তরপাড়া থেকে জিটি রোডের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের যাতায়াতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে পুলিশ কোথায় ছিল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
কালীঘাটের বাড়ি থেকে শ্রীরামপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে মমতা বলেন, আদালতের অনুমতি পাওয়ার পরও তাঁদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রায় নজরবন্দির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাস্তা আটকে রাখার অভিযোগও করেন তিনি।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশের দায়িত্ব। অথচ একের পর এক হামলার অভিযোগ উঠছে এবং সেখানে পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। আদালতের নির্দেশ মেনে চলার জন্যও তিনি আবেদন জানান।
ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মমতার বিজেপিকে নিশানা করার পর। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় বিজেপি ‘জুলুমবাজি’ চালাচ্ছে এবং বিরোধীদের স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেওয়া হচ্ছে না। ভোটাধিকার নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার ঘটনায় বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হলেও বিজেপি তা রাজনৈতিকভাবে খারিজ করেছে। তাদের বক্তব্য, ঘটনাটি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ফলে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপির রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ল।
এদিকে, শ্রীরামপুরের সভাকে ঘিরে আগে থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল। আদালতের নির্দেশে সভার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যেই সভায় যাওয়ার পথে কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং পুলিশের তরফে কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে। রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
